মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার সম্মাননা পেল ৪ উদ্যোক্তা

এফএনএস (আমিনুল হক সাদি; কিশোরগঞ্জ) : | প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার সম্মাননা পেল ৪ উদ্যোক্তা

কিশোরগঞ্জের মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার সম্মাননা ২০২৬ পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের চার গুণী উদ্যোক্তা। গত মংগলবার জেলার সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের গোয়ালাপাড়ায় অবস্থিত মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারে যুব উন্নয়ন পরিষদের আয়োজনে বেকার যুব-যুবতীদের আত্নকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে গরু মোটাতাজাকরণ বিষয়ক ৭ দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী উপলক্ষে যুব প্রশিক্ষণ সেন্টার, শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।  এতে প্রধান অতিথি  ছিলেন কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক কথা সাহিতিক মোঃ রফিকুল ইসলাম শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন  সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ নজরুল ইসলাম মিয়া, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামাল হোসেন, মো: শাহান শাহ ভুঁইয়া। এতে সভাপতিত্ব করেন সেচ্ছাসেবী যুব কল্যাণ সংস্থা যুব উন্নয়ন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগারের সভাপতি মো.আমিনুল হক সাদী।  বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কামাল, সাংবাদিক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ,সমাজকর্মী  মো. ফরহাদ ইসলাম, মুখানিভেতা রিফাত ইসলাম,প্রশিক্ষিত যুবক মুস্তাফিজুর রহমান, জিহাদ আহমেদ সুমন প্রমুখ । অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় চার গুণী উদ্যোব্যক্তিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। এতে কিশোরগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক  হিসেবে যোগদান করায় কথা সাহিতিক মোঃ রফিকুল ইসলাম শামীম,মহিনন্দ  ইউনিয়নের কৃতি সন্তান উদ্যোক্তা মো: মস্তোফা কামাল, বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতি কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায়,মহিনন্দ ইউনিয়নের গালিমগাজীর কৃতি সন্তান সাংবাদিক ও লেখক  মো. আসাদুজ্জামান আসাদ সাহিত্য সাংবাদিকতায় অবদান রাখায় ,মহিনন্দ  ইউনিয়নের চংশোলাকিয়ার কৃতি সন্তান সমাজকর্মী  মো. ফরহাদ ইসলাম সমাজসেবায় অবদান রাখায় তাদেরকে মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার সম্মাননা স্মারক ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। প্রসংগত প্রশিক্ষিত সফল যুবক আমিনুল হক সাদী ২০১০ সালের ১০ মার্চ যুব উন্নয়ন পরিষদ নামে একটি যুব কল্যাণমূলক সামাজিক সংগঠন তৈরি করে দক্ষ যুব সংগঠক হিসেবে সুনাম কুরিয়েছেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২০ সালে এ সংগঠনকে নিবন্ধন দিলে তিনি আরো উৎসাহিত হন। এলাকায় তার যুব কর্মে উদ্বেলিত হয়ে আরো ১০টি যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তার যুবকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে প্রথমে নিজ মহিনন্দ ইউনিয়ন, পরবর্তীতে সদর উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন থেকে জেলা পর্যায়ে এমনকি জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের থেকে শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক হিসেবে পেয়েছেন সম্মাননার স্বীকৃতি।  তার এ সংগঠনের কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকায় ব্যাপকভাবে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সমাজকর্মী আমিনুল হক সাদীর সফলতা দেখে এলাকার বেকার যুবারাও কর্মসংস্থানের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে আড়াই হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণের আওতায় এনেছেন। তন্মধ্যে ৩ শতাধিক ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলেছেন। সাদীর উদ্যোগে ও প্রচেষ্ঠায় এলাকার ১০জন বেকার যুবকের সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মসংস্থান হয়েছে। বিদেশে আরো ১০জন বেকারকে কর্মসংস্থানের সহযোহিতা করেছেন। যেকোনো দুর্যোগমোকাবিলাসহ নানা কার্যক্রমের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে উৎপ্রোতভাবে জড়িত থেকে বিরল অবদান রেখে আসছেন। এছাড়াও ২০০৬ সালে মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ প্রতিষ্ঠা করে সমাজ কল্যাণমুল্লক কর্সকান্ড পরিচালনা করে আসছেন। ২০১১ সালে মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করে এতদাঞ্চলে জ্ঞানের আলো বিকিরণ করে আসছেন।  পাঠাগারটি জেলার বেসরকারি গণগ্রন্থাগার হিসেবে জেলা প্রশাসন ও সরকারি গণগ্রন্থাগার থেকে শ্রেষ্ঠ পাঠাগার হিসেবে স্বীকৃতি ও সম্মাননা ক্রেস্ট পেয়েছে।  এ পাঠাগারের মাধ্যমে এযাবত ৫০ জন গুণী ব্যাক্তিকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেছে। সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সাদী ও তার প্রতিষ্ঠিত সংগঠনসমূহ অনন্য ভূমিকা পালন করছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে