বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলে ভেতরে যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ও মতভেদ বিরাজ করছিল, তা অবশেষে দূর হয়েছে। এর ফলশ্রুতিতে দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি ও আশাবাদ। বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ খান এবং সাবেক সভাপতি ইসরাত হোসেন কচি তালুকদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনস্তাত্ত্বিক বিরোধের কারণে আলাদাভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নজির ছিল। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও কষ্ট জমে উঠেছিল। তবে সময়ের প্রয়োজনে এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে আজ সেই বিভাজনের অবসান ঘটেছে। ১৭ জানুয়ারী শনিবার সন্ধ্যায়, বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ হলরুমে আয়োজিত এক রাজনৈতিক সভায় এই দুই শীর্ষ নেতা তাঁদের রাজনৈতিক অভিভাবক, প্রবীণ আইনজীবী ও বিএনপি মনোনীত বাবুগঞ্জ-মুলাদী আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সঙ্গে একই মঞ্চে পাশাপাশি বসেন। এই দৃশ্য দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের একটি শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দেয়। সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এই মিলন শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের উন্নয়ন নয়, বরং বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তৃণমূলের কর্মীরা আশা প্রকাশ করেন, নেতৃত্বের এই ঐক্য ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামে দলকে আরও গতিশীল করবে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনে জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই ঐক্য বিএনপির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মতভেদ ভুলে দলীয় সংহতি বজায় রাখতে পারলে বাবুগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত হবে-এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সবাই। এই মিলন ও সৌহার্দ্যরে মাধ্যমে বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি আবারও প্রমাণ করলো-দলীয় ঐক্যই রাজনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি।