পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু খাবার বাকরখানি এখন আর শুধু রাজধানীতেই সীমাবদ্ধ নেই। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র বগুড়ায়ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এই ঐতিহ্যবাহী রুটি। সকালের নাশতা থেকে শুরু করে বিকেলের চায়ের আড্ডা সবখানেই এখন দেখা যাচ্ছে বাকরখানির দাপট। বগুড়া শহরের ফতেহ বাজার গেট, গালাপট্টি রোড এলাকায় একাধিক দোকানে নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে বাকরখানি। ঘিয়ের সুগন্ধ, মচমচে টেক্সচার আর দীর্ঘদিন ভালো থাকার কারণে ক্রেতাদের কাছে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই খাবারটি। ফতেহ আলী বাজার গেটের এক বিক্রেতা ফারুক হোসেন বলেন, আগে মানুষ শুধু বিস্কুট বা পরোটা খেত। এখন বাকরখানি দেখলেই কিনে নিচ্ছে। প্রতিদিন সকালে ৪০০০-৫০০০ হাজার পিস বিক্রি হয়ে যায়। চাহিদা বাড়ছে দিন দিন ক্রেতারাও বেশ খুশি। বগুড়া শহরের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, পুরান ঢাকায় খেয়ে বাকরখানির স্বাদ চিনেছি। এখন বগুড়ায় পাওয়া যাচ্ছে দেখে খুব ভালো লাগছে। চায়ের সাথে দারুণ লাগে, আর অনেকক্ষণ ভালো থাকে। আরেক ক্রেতা কলেজছাত্রী মেহজাবিন আক্তার বলেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় এখন বাকরখানি রাখতেই হয়। স্বাদটা আলাদা, আর প্যাকেট করে নিয়ে যাওয়া যাওয়া যাচ্ছে সহজ। বিক্রেতারা জানান, ঢাকার আদলে তৈরি করা এই বাকরখানি এখন বগুড়ার কিছু বেকারিতেও তৈরি হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় কর্মসংস্থানও বাড়ছে। একজন বেকারি মালিক বলেন, আমরা পুরান ঢাকার রেসিপি অনুসরণ করে বানাচ্ছি। ঘি, দুধ আর ময়দার মান ভালো রাখায় ক্রেতারা আবার ফিরে আসছে। খাবারের সংস্কৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বাকরখানি। বগুড়ার মানুষ এখন ঐতিহ্য আর স্বাদের মিশেলে এই খাবারকে আপন করে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বাকরখানি এখন বগুড়ার নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় স্থায়ী জায়গা করে নিচ্ছে।