পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এফএনএস (মো: সজিব ইসলাম; চারঘাট, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারী, ২০২৬, ০২:৩৭ পিএম
পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব জনগণের সেবা করা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের বাহিনী নয়, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষকও নয়। পুলিশ বাহিনী জনগণের বেতনভুক্ত কর্মচারী এবং জনগণের সেবাই তাদের মূল দায়িত্ব। রবিবার (১৮ জানুয়ারি ) রাজশাহীর চারঘাটের সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে  ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।  পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, পুলিশ বাহিনী কোনো অন্যায় আদেশ মানবে না এবং অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবে না। পুলিশের কাজ হলো জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মজলুমের পক্ষে দাঁড়ানো। দায়িত্ব পালনে ন্যায় ও নিষ্ঠার পথ অবলম্বন করতে হবে। সাহস মানে অন্যায় আদেশকে না বলা এবং সঠিক পথে অটল থাকা। পুলিশ বাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, মানবিক মূল্যবোধ, নৈতিকতা, দক্ষতা, বিচক্ষণতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আসন্ন নির্বাচনে ১ লাখ ৫০ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। অন্যায় আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমীর প্রিন্সিপাল ও অ্যাডিশনাল আইজিপি মোঃ তওফিক মাহবুব চৌধুরী। প্রশিক্ষণে সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বেস্ট প্রবেশনার নির্বাচিত হন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোঃ মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড পান মোঃ সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার নির্বাচিত হন সালমান ফারুক। জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের মোট ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএস-এর ১ জন, ৩৫তম বিসিএস-এর ৩ জন, ৩৬তম বিসিএস-এর ১ জন, ৩৭তম বিসিএস-এর ২ জন এবং ৪০তম বিসিএস-এর ২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করে। সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে উক্ত সহকারী পুলিশ সুপারগণ বিভিন্ন জেলায় ০৬ (ছয়) মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য পদায়িত হবেন।