নাজিরপুরে শতবর্ষী পিঠা উৎসব

এফএনএস (মুহাম্মাদ আল-আমীন হোসাইন; নাজিরপুর, পিরোজপুর) : | প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:৩৫ এএম
নাজিরপুরে শতবর্ষী পিঠা উৎসব

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুমারখালী সার্বজনীন কালী মন্দির কমিটির উদ্যোগে স্থানীয় দেবলাল চক্রবর্তীর বাড়ীতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পিঠা উৎসব করা হয়। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকেই গভীর রাত পযন্ত মন্দির প্রাঙ্গণে এ ঐতিহ্যবাহী ও শতবর্ষী  চিতই পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।  বাৎসরিক এই চিতই পিঠা উৎসবে একশত ( ১০১) একখানা  মন্দিরের সামনে বিশাল আকৃতির বটগাছের নিচে মাঘের অমাবস্যা তিথিতে মাটির তৈরী নতুন ১০৮ টি চুলায় ও বিশাল আকৃতির দাড়ানো একটি  বট গাছের মধ্যভাগে বাঁশ দিয়ে মাচা তৈরি করে সেখানে বসে একটি ( ০১টি) চুলায় মোট ১০৯ টি চুলায় একত্রে শুরু চিতই পিঠা ভাজা এই অনুষ্ঠানটির  আয়োজন করে মন্দির কমিটি সহ স্থানীয় একালাবাসী। চিতই পিঠা উৎসব টি শুরু হয় সন্ধ্যায় আর শেষ হয় গভীর রাতে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে পিরোজপুর জেলা সহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য নারী-পুরুষ, ভক্ত বৃন্দ ও দর্শনার্থীদের ভিড় লক্ষ করা যায় পিঠা  উৎসবকে ঘিরে। উৎসবটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে হলেও স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মাম্বলীরা পিঠা উৎসব কে  উপভোগ করতে আসেন। মন্দির কমিটির সভাপতি অমৃত লাল দাস জানান, প্রায় শত বছরের বেশি সময় ধরে এ চিতই পিঠা উৎসব হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মাঘের অমাবস্যা তিথিতে কালিমন্দির প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মন্দিরের ভক্তসহ বিভিন্ন লোকজন এখানে আসেন। তবে তাদের মনোবাসনা (মানত) পূর্ণ করতে বা পূর্ণ হলেই এখানে এসে এ চিতই পিঠা  উৎসবে যোগ দেন তারা। আর এদের অধিকাংশই যেসব নারীদের সন্তান হয় না (বন্ধ্যা) তারাই মানত করতে আসেন। আর সন্তান লাভের পর এখানে চিতই উৎসব করেন।  তিনি আরও বলেন, আমাদের বাব-দাদার কাছ থেকে শুনেছি এখানে প্রথম এক মা তার সন্তান লাভের জন্য মানত করতে আসেন এখানে। পরে তার মনোবাসনা পূর্ণ হলে তিনি কালী মা (কালী মন্দির) চিতই ভেঁজে খাওয়ান। সে থেকেই এ উৎসবের শুরু। আর এ কারনেই এর নাম রাখা হয় শতবর্ষে পিঠে উৎসব। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজারো ভক্ত যোগ দেন এ উৎসবে।  মন্দিরের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত দেবলাল চক্রবর্তী জানান, প্রায় শত বছরের অধিক সময় আগে তার পূর্ব পুরুষ হরষিত আনন্দ চক্রবর্তী ওই উৎসবের আয়োজন করেন। উৎসবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা যোগ দেন। তারা তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে এখানে মানত করেন। আর মনোবাসনা পূর্ণ হলে এ চিতই উৎসবে যোগ দেন ভক্তরা। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে সেখানে হাজারো মানুষের উপস্থিতি। উপস্থিত অনেক দম্পত্তির কোলে রয়েছেন ছোট শিশু সন্তান। কালী মন্দির সংলগ্ন বট গাছের সামনের  মাঠে সারি করে পরস্পর ১০৮ টি নতুন  মাটির চুলা তৈরি করা হয়েছে। সেই চুলার ওপর সাজানো রয়েছে চিতই পিঠা তৈরির মাটির সাজ ও দাড়ানো বট গাছটির মধ্য ভাগেও আরেকটি (০১) চুলা ও সাজানো হয়ছে। পাশেই বাজানো হচ্ছে ঢোল-কাশ সহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র। সন্ধ্যার পরপরই মন্দিরের দায়িত্বে থাকা পুরোহিত দেবলাল চুলাগুলোর প্রতিটিতে পর্যায়ক্রমে লোহার একটি পাত দিয়ে আঘাত করতে দেখা য়ায়। চুলায় থাকা সাজে ফুল ও পরে চুলায় আগুন দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। এসময় ভক্ত হিন্দু নারীরা উলু ধ্বনির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। ১০৮ টি চুলায় পর্যায়ক্রমে পিঠা তৈরিতে বা পিঠা ভজতে  অংশ নেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের নারীরা। অপর দিকে অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির সদস্যরা পিঠা তৈরি উপকরণ চালের গুড়ার গোলা সরবরাহ করছেন। অপর দিকে কালি মন্দিরের সামনের থাকা বৃহৎ আকারের   বটগাছের উঁচুতে বসে একজন ভক্ত কে অপর  ০১ টি চুলায় পিঠা। ভাজতে দেখা গেছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে