দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন আবারও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে কেন্দ্রটির সব ইউনিট অচল হয়ে পড়ে, ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, রোববার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে প্রথম ইউনিটের বয়লারের একটি টিউব ফেটে যায়। এতে নিরাপত্তাজনিত কারণে সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এই ইউনিট বন্ধ হওয়ার মধ্য দিয়ে কেন্দ্রটির সবকটি ইউনিটই উৎপাদনের বাইরে চলে যায়, কারণ বাকি দুটি ইউনিট আগেই বন্ধ ছিল।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন পরিস্থিতি বেশ কিছুদিন ধরেই সংকটাপন্ন। ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। আর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর মাস থেকেই উৎপাদনের বাইরে। দীর্ঘদিন ধরে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করার বিষয়ে এখনো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত আসেনি।
প্রথম ইউনিটটি এর আগে ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি প্রায় দুই সপ্তাহের বন্ধের পর পুনরায় চালু করা হয়েছিল। তবে চালুর চার দিনের মাথায় রোববার আবারও সেটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রটির পুরো উৎপাদন কার্যক্রম থেমে গেল।
কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। বয়লারের তাপমাত্রা প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটি পুরোপুরি ঠান্ডা হলে মেরামত কাজ শুরু করা হবে।”
তিনি জানান, মেরামতের পর কবে নাগাদ উৎপাদন শুরু করা যাবে, সে বিষয়ে এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। তার ভাষায়, “ইউনিটটি অনেক পুরোনো। প্রায় ২০ বছর ধরে চালু রয়েছে। এ ধরনের ইউনিটে মেরামতের কাজ শেষ করে আবার উৎপাদনে ফিরতে সময় বেশি লাগতে পারে।”
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লার ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। কেন্দ্রটির তৃতীয় ইউনিটটি চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনালের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে তৃতীয় ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চ মাসে উৎপাদনে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।”
এদিকে কেন্দ্রটির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ থাকায় স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরও বেড়েছে। জাতীয় গ্রিডে বড়পুকুরিয়ার বিদ্যুৎ না যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।