নীলফামারীতে তিস্তা সেচ প্রকল্পের দিনাজপুর ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে গেছে। এতে পানিতে তলিয়ে গেছে শতাধিক একর ফসলি। ক্ষতি হয়েছে সরিষা, বোরো বীজতলা, আলু, ভুট্টা ও বিভিন্ন রবি শস্যে। ১৯ জানুয়ারি সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের সিংদই গ্রামের কামারপাড়ায় ক্যানেল ভেঙ্গে যায়। এ সময় ক্যানেলের পানি আশপাশের ফসলি জমিতে প্রবেশ করে। আব্দুর রহমান জানান, চলতি বোরো মৌসুমে (খরিপ-১) তিস্তা সেচ প্রকল্প থেকে ১৫ জানুয়ারি পানি সরবরাহ শুরু হয়। সেচের পানি পেয়ে দিনাজপুর ক্যানেলের দুই পাশের জমিতে কৃষকরা বোরো চারা রোপণসহ বিভিন্ন ফসলে সেচ দেয়া শুরু করে। এ অবস্থায় হঠাৎ ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে পানি ঢ়ুকে পড়ে জমিতে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শরিফ ইসলাম ও শফিকুল ইসলামসহ অনেকে জানান, এর আগেও ২০১৫ ও ২০২৪ সালে একই ক্যানেলের বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, প্রতিবছর নামমাত্র সংস্কারের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। সিংদই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত এসে দেখি আমার ১০ বিঘা জমির ফসল পুরোপুরি পানির নিচে। এনজিও থেকে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে পাঁচ বিঘা জমিতে আলু আবাদ করেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেছে। একই গ্রামের কৃষক রজব আলী জানান, ঘটনার পরপরই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যথাযথ সংস্কার না করায় ক্যানেলের পাড় দুর্বল হয়ে তা ভেঙ্গে গিয়ে এ অবস্থা । ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা নীলফামারী মহাসড়ক অবরোধ করে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। এ সময় নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে কৃষকদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। এ বিষয়ে নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ওই স্থানে ইঁদুরের গর্ত ছিল। সেচের পানি প্রবাহিত হওয়ায় সেই গর্তের কারণে ক্যানেলের তীর ভেঙে পড়ে। তিনি জানান, দ্রুত ভাঙনস্থল মেরামত করে সেচ কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে। তবে দিনাজপুর ক্যানেলে এই ক্ষতি হলেও তিস্তা সেচ প্রকল্পের রংপুর ও বগুড়া ক্যানেলে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প থেকে চলতি খরিপ-১ বোরো মৌসুমে ১৫ জানুয়ারি থেকে সেচ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে মোট ৫৭ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো)। এর মধ্যে নীলফামারী জেলায় ৩৭ হাজার ৩০০ হেক্টর, রংপুর জেলায় ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং দিনাজপুর জেলায় ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চলতি মৌসুমে মে মাস পর্যন্ত টানা পাঁচ মাস কৃষকরা তিস্তার সেচ সুবিধা পাবেন।