হাজার হাজার নেতাকর্মীর চোখের জলে বিদায় দিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামায়াতের কেন্দ্রিয় মজলিসে শূরা সদস্য কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেমকে ৩ দফা জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ওয়াপদা মাদ্রাসা-মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে। প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (১৯ জানুয়ারী) রাতে মরহুমের নিজ এলাকা ভেড়ামারার গোলাপনগরে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারী) সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া শহরের চাঁদাগাড়া ঈদগাহ ময়দানে। তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১১টায় মিরপুর ফুটবল মাঠে। প্রতিটি জানাজায় হাজার হাজার নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন। সকালে কুষ্টিয়া শহরের চাঁদাগাড়া ঈদগাহের মাঠ জানাজার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কানায় কানায় ভরে যায়। জনসমুদ্রে পরিণত হয় এলাকা। সেখানে জানাজায় জামায়াতের নেতা কর্মী ছাড়াও বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন। জামায়াতের কুষ্টিয়া যশোর অঞ্চলের টিম সদস্য সাবেক কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে আলী মহসীন তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে মরহুমের নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন। সেখানে জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুল মতিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আব্দুল গফুর, কেন্দ্রীয় মজলিস শূরা সদস্য আলমগীর হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রিয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের ঝিনাইদহ জেলা আমীর অধ্যাপক আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, জামায়াতের কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমীর হামজা, ফরিদপুর জেলা আমীর বদর উদ্দিন, মাগুরা জেলা আমীর অধ্যাপক এমবি বাকের, পাবনা জেলা আমীর আবুতালেব মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এ্যাড. রুহুল আমিন, মেহেরপুর জেলা আমীর তাজউদ্দিন আহমেদ, পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের ভাইরা ড. আবু সালেহ, ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম আসিফ, বিএনপির মিরপুর-ভেড়ামারা আসনের প্রার্থী ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারী মাওলানা আরিফুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। গত সোমবার বিকালে জামায়াতের কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের প্রার্থী মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরের সিঙ্গার মোড়ে মিছিল শেষে বক্তব্যকালে স্ট্রোক করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অধ্যাপক আবুল হাশেম। সে সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল (৫৫) বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দলের নেতৃবৃন্দসহ দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। নেতৃবৃন্দ মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।