পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমাদের সমাজেরই একটি অংশ চায় না নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হোক। তাই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় আজ (২০ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনও ধরনের বিভ্রান্তি, অপপ্রচার কিংবা সহিংসতার সুযোগ দেয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কী হবে আর কী হবে না-তা অনেকটাই নির্ভর করছে তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। তাই ভোটাধিকার প্রয়োগে তরুণদের সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে
তৌহিদ হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন। এর ফলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি সুদৃঢ় হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের স্বার্থে সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়েই রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষতা কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কারও রাজনৈতিক মত থাকতে পারে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে তার কোনো প্রকাশ গ্রহণযোগ্য নয়। নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সভায় নির্বাচনকে সামনে রেখে সার্বিক প্রশাসনিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা পরিকল্পনা, আন্তঃদপ্তর সমন্বয় এবং ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।