সাভারে সংঘটিত হওয়া একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আলোচিত সিরিয়াল কিলার ‘সম্রাট’-এর আসল পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তদন্তে জানা গেছে, তার প্রকৃত নাম মশিউর রহমান খান সম্রাট নয়; আসল নাম সবুজ শেখ। পুলিশ জানায়, সবুজ শেখের বাবার নাম পান্না শেখ। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় সন্তান। তার বড় বোনের নাম শারমিন। সবুজের জন্মস্থান ও পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে ভয়াবহ ও লোমহর্ষক তথ্য। নাম ও পরিচয় গোপন রেখে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পেতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভবঘুরে নারী ও পুরুষদের সাভারের পরিত্যক্ত ও নির্জন ভবনে নিয়ে যেতেন সবুজ। পরে ওই নারীরা অন্য কারও সঙ্গে কিংবা অন্য কেউ তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়ালে ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের হত্যা করতেন তিনি। এসব ঘটনায় দেওয়া তার স্বীকারোক্তি বর্তমানে যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ। সবশেষ ঘটনায় জানা যায়, ঘটনার তিন থেকে চার দিন আগে তানিয়া ওরফে সোনিয়া নামে এক ভবঘুরে তরুণীকে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যান সবুজ। সেখানে ওই তরুণীর সঙ্গে আরেক ভবঘুরে যুবকের অনৈতিক সম্পর্ক হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে প্রথমে যুবকটিকে কমিউনিটি সেন্টারের দোতলায় নিয়ে হত্যা করেন তিনি। পরে ওই তরুণীকেও নিচতলায় হত্যা করে মরদেহ কাঁধে করে দোতলার টয়লেটে নিয়ে যান এবং দুজনের মরদেহ একসঙ্গে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন। সোমবার আদালতে তাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সবুজ ওরফে সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটান ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। এরপর একই বছরের ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন। প্রায় এক মাস পর, ১১ অক্টোবর ওই ভবন থেকেই আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়, যাকেও হত্যার দায় স্বীকার করেছেন সবুজ। পরবর্তীতে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর একই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে আরও এক যুবককে হত্যা করেন তিনি। সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তার নাম উঠে আসে। পুলিশ বলছে, পুরো ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত পরিকল্পিত ও ভয়ংকর। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরীহ বা মানসিকভাবে অসুস্থ মনে হওয়া মানুষও ভয়ংকর অপরাধী হতে পারে। তাই অপরিচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।