চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে ধান চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের উদ্যোগে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হাটহাজারী উপজেলার চারিয়া প্রযুক্তি গ্রামে কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষকের জমিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে ধানের চারা রোপণ করা হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা। তিনি বলেন, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে কম বয়সী চারা রোপণ করা সম্ভব হওয়ায় সময়, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। একই সঙ্গে ধানের ফলন বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর ধান চাষ সম্প্রসারণে ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাটহাজারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মেজবাহ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ওমর ফারুক এবং ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. আমিনা খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা। ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, চট্টগ্রামের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোছা. আমিনা খাতুন জানান, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় চারিয়া গ্রামকে একটি প্রযুক্তি গ্রাম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার, মাঠ পর্যায়ের প্রদর্শনী এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী কৃষক মোঃ শাহ আলম জানান, আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে অল্প সময়ে ধান রোপণ সম্ভব হওয়ায় শ্রমিক সংকট কমেছে এবং উৎপাদন খরচ হ্রাস পাওয়ায় তারা লাভবান হওয়ার আশা করছেন। কৃষি উদ্দোক্তা ও বিশিষ্ট সাংবাদিক মো: বোরহান উদ্দিন জানান এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে তরুণ প্রজন্ম কৃষি কাজে আকৃষ্ট হবে যা খুবই ইতিবাচকএবং কর্মসংস্থানের পাশাপাশি খাদ্য ঘাটতি হ্রাস পাবে। উল্লেখ্য, এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় চারিয়া প্রযুক্তি গ্রামে কৃষি যন্ত্রপাতির প্রায়োগিক পরীক্ষণের পাশাপাশি আধুনিক ধানের জাত জনপ্রিয়করণ, ধানের উৎপাদন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার উপযোগী জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)।