এবার উঠলো ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক

এফএনএস স্পোর্টস | প্রকাশ: ২২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
এবার উঠলো ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক

মঞ্চ প্রস্তুত, কাউন্টডাউনও শুরু হয়েছে আরও আগে। কিন্তু জুন-জুলাইতে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন করে বিপত্তি বেধেছে। আর এর মূলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিতে চান। যা নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ইউরোপজুড়ে। এর রেশ ধরে সেখানকার দেশগুলো বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। উত্তর আটলান্টিক দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো, সেখানে আছে ডেনমার্কও। তাদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটলে ন্যাটোর ওপরও প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেনমার্ক আবার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্র। কিন্তু গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সম্প্রতি দুই দেশের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপের ওই ভূখণ্ডে ট্রাম্পের নজর পড়ার বিষয়টি ভালোভাবে নিচ্ছেন না অনেকেই। ফ্রান্সের বামপন্থি আইনপ্রণেতা এরিক কোকুয়েরেল বলছেন, এটাই ফ্রান্সের বিশ্বকাপ বয়কটের সুযোগ করে দিয়েছে এবং বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যমে এরিক কোকুয়েরেল লিখেছেন, ‘আমরা কি কল্পনা করতে পারছি যে, এমন একটি দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে যাব, যারা আমাদের প্রতিবেশিদের ওপর আধিপত্য দেখা চায়। গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দিচ্ছে, আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জাতিসংঘকে অচল করে দিতে চায়। এই প্রশ্নটা গুরুতর হয়ে উঠেছে, বিশেষত এখনও ইভেন্টটি (বিশ্বকাপ) মেক্সিকো ও কানাডায় সরিয়ে নেওয়া যায়।’ তার ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দু’বারের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসিরা বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়। তবে এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি, ‘আমরা এমন সময়ে কথা বলছি, যখন মন্ত্রণালয় এমন মেজর এবং বহুল প্রত্যাশিত ইভেন্ট বয়কটের ইচ্ছা পোষণ করে না। কী ঘটবে সেই পূর্ভাবাসও দিচ্ছি না আমি।’ একইসঙ্গে খেলাকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখারও পক্ষে ফেরারি, ‘২০২৬ বিশ্বকাপ সকল ক্রীড়াপ্রেমীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।’প্রসঙ্গত, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ‘দখলে’ তাকে বাধা দেওয়ায় আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্য, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। যদি জুনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি না করা হয় তাহলে এই শুল্ক বেড়ে ২৫ শতাংশে দাঁড়াবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তিনি।