দক্ষিণ এশিয়ার ফুটসালে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ। প্রথমবার আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতেছে সাবিনা খাতুনের দল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সে অপরাজিত থেকেই শীর্ষে থেকে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ।
ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল সহজ, ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন। তবে সাবিনা ও কৃষ্ণারা কোনো হিসাবের পথে না হেঁটে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটসাল খেলেন। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করলেও খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।
তৃতীয় মিনিটে গোলকিপার স্বপ্না আক্তার ও মাসুরা পারভীনের বোঝাপড়ার ভুলে মালদ্বীপ এগিয়ে যায়। তবে সেই ধাক্কা সামলাতে সময় নেয়নি বাংলাদেশ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরাসরি ফ্রি কিক থেকে সমতা ফেরান অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। পরের ফ্রি কিকেই আবার জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় একতরফা আধিপত্য।
প্রথমার্ধেই ছয়টি গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। সাবিনার জোড়া গোলের সঙ্গে লিপি আক্তারও করেন দুটি গোল। বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬–১। দ্বিতীয়ার্ধে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের আক্রমণ। ম্যাচের শুরুর দিকেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাবিনা। এরপর একে একে গোলের খাতায় নাম লেখান মাতসুশিমা সুমাইয়া, নিলুফা ইয়াসমিন, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মেহেরুন আক্তার ও মাসুরা পারভীন।
শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্কোরলাইন পৌঁছে যায় ১৪–২ এ। অধিনায়ক সাবিনা এক ম্যাচে চার গোল করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ তে, যা সর্বোচ্চ।
দক্ষিণ এশিয়ার সাত দল নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে সংগ্রহ করে ১৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভুটানের পয়েন্ট ছিল ১১। সাফের বাইলজ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল হিসেবেই শিরোপা ওঠে বাংলাদেশের হাতে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে গড়া দল। ২০১৮ সালে ফুটসালে যাত্রা শুরু হলেও কয়েক বছর কার্যক্রম বন্ধ ছিল নারী ফুটসালের। পরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নতুন উদ্যোগে অনুশীলন শুরু করে। সেই প্রস্তুতির ফলই মিলেছে প্রথম সাফ নারী ফুটসালেই।
ফুটবলে নানা প্রতিকূলতা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও সাবিনা, কৃষ্ণা ও তাঁদের সতীর্থরা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে তারা দেশের জন্য শিরোপা এনে দিতে পারেন। ফুটসালের মঞ্চে এই অর্জন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল।