দীর্ঘ বিরতির পর আবারও জাতীয় দলে ফেরার আলোচনায় সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ফিটনেস ও প্রাপ্যতা ঠিক থাকলে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে তাঁকে আবারও বিবেচনায় রাখা হবে। একই সঙ্গে তাঁকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনার দিকেও এগোচ্ছে বিসিবি। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে জাতীয় ক্রিকেটে অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নতুন করে জোরালো হলো।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জরুরি বোর্ড সভায় শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সাকিব আল হাসানকে ভবিষ্যৎ স্কোয়াডের জন্য পুনরায় বিবেচনায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। দীর্ঘ বৈঠক শেষে বোর্ড কর্তারা জানান, সাকিবের ফিটনেস, খেলার প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট ভেন্যুতে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকলে নির্বাচক কমিটি তাঁকে দলে নেবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য বিসিবি এনওসি দিতেও প্রস্তুত।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, “সময়মতো সাকিবকে পাওয়া গেলে এবং সে যদি ফিট থাকে, তাহলে হোম ও অ্যাওয়ে সিরিজে তাকে নির্বাচনের জন্য বিবেচনা করা হবে।” তিনি জানান, সাকিবকে আবার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আনার প্রস্তাবও বোর্ডে এসেছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা ও আইনি বিষয়গুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সাকিব দেশের হয়ে সর্বশেষ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর, ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর বিরুদ্ধে জনরোষ ও বিক্ষোভের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সম্ভাব্য বিদায়ী টেস্ট খেলতে না পেরে দুবাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান তিনি। এরপর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে আছেন এই অলরাউন্ডার।
বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের পর সাকিব নিজেও প্রতিক্রিয়া জানাতে সংযত ছিলেন। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে যোগাযোগে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে একটু ধীরে-সুস্থে প্রতিক্রিয়া জানাব।” আগে তিনি দেশে ফিরে ঘরের মাঠে খেলে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবর জানান, ক্রিকেট অপারেশন্স সংক্রান্ত আলোচনার সময় চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকা ও গ্রেডিং নিয়ে কথা বলতে গিয়েই সাকিবের প্রসঙ্গ ওঠে। তিনি বলেন, “একপর্যায়ে জানা যায়, সাকিব খেলতে আগ্রহী এবং বোর্ডের সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছে। ব্যক্তিগত ও আইনি বিষয়গুলো সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। বোর্ডের দৃষ্টিতে আমরা তাকে আবার দলে চাই।” সাকিবকে তিনি বাংলাদেশের ক্রিকেটের বড় ব্র্যান্ড হিসেবেও উল্লেখ করেন।
টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ড খেলবে, এমন সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে মেনে নিয়েছে বিসিবি। এই প্রেক্ষাপটে সামনে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজকে সাকিবের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই সিরিজ দিয়েই আবার লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল অলরাউন্ডারকে।