ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে মানুষকে বিভক্ত করার রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ বাস করে, এখানে ধর্মের কারণে বিভাজন তৈরি করা সুবিধাবাদ ও বর্ণবাদের শামিল। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে ধারাবাহিক পথসভা ও গণসংযোগে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন এবং মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বরুনাগাঁও মাদ্রাসা মাঠে পথসভায় মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতে ইসলামী ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার করছে, এটি ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, “এদেশে সব ধর্মের মানুষ বসবাস করে। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।” একই সভায় তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া এবং ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা।
এই দিনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথাও তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। ঠাকুরগাঁও শহরের চেরাডাঙ্গী মাঠে নির্বাচনী গণসংযোগে তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়েছে তাঁকে। একসময় কারাগারে থাকা অবস্থায় তাঁর স্ত্রীর অপারেশন হলেও মুক্তি দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি, কিন্তু মাথা নত করিনি। আমাদের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা। এখন সুযোগ আগামীর বাংলাদেশ গড়ার।”
ধর্মীয় সম্প্রীতির বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে একই দিন সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নে একটি ইসকন মন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল বলেন, “ধর্ম-গৌত্র দিয়ে মানুষকে বিভক্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সবাই বাংলাদেশি।” নিজেকে ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁর শিক্ষা হলো অন্যান্য ধর্মালম্বীদের সম্মান করা এবং মানবতাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, সামনে নির্বাচনে সবাই নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবেন।
বিএনপির রাজনীতি ও অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্পষ্ট বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব। বরুনাগাঁও ও সালন্দর ইউনিয়নের পৃথক গণসংযোগ সভায় তিনি বলেন, বিএনপি জনগণকে বিক্রি করে সম্পদ বানায় না। তাঁর কথায়, “আমরা বাপ-দাদার জমি বিক্রি করে রাজনীতি করেছি। জনগণের আমানতের কোনো খেয়ানত করব না।” দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, কেউ দুর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল জানান, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যাতে ন্যায্যমূল্যে সার ও বীজ পাওয়া যায়। মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রী ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা মিলবে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শেষের দিকে আবেগী কণ্ঠে তিনি জানান, বয়সের কারণে এটিই তাঁর শেষ নির্বাচন। তিনি বলেন, “জীবনের শেষ নির্বাচনে আপনারা আমাকে ভোট দিলে আপনাদের অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করবো ইনশাআল্লাহ।” দিনভর এসব কর্মসূচিতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।