আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে ভোটের রাজনীতিতে স্পষ্ট পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে। বাগমারা উপজেলার ঝিকরা ইউনিয়নে সম্প্রতি পরিচালিত গণসংযোগে স্থানীয় ভোটারদের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয়দের মতে, একসময় ভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব থাকলেও বর্তমানে ঝিকরা ইউনিয়নে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সরদার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই নিয়মিতভাবে ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম, বাজার ও পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবার ঝিকরা ইউনিয়নের ঝিকরা বাজারসহ আশপাশের এলাকায় তিনি ব্যাপক গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে নিজের নির্বাচনী অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
গণসংযোগকালে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও তরুণ ভোটারদের সঙ্গে ডা. আব্দুল বারীকে আন্তরিকভাবে কথা বলতে দেখা যায়। ভোটাররা দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অনিয়ম, দলীয় বৈষম্য ও সেবা বঞ্চনার নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। অনেক ভোটার প্রকাশ্যেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও সমর্থনের কথা জানান।
ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, সৎ নেতৃত্ব ও ইনসাফের রাজনীতির আহ্বান নতুন করে মানুষকে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ডা. আব্দুল বারী বলেন, “বাগমারার মানুষ পরিবর্তন চায়। তারা দুর্নীতি ও দলীয়করণের রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। আমি নির্বাচিত হলে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সকল নাগরিকের জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করবো।”
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নই হবে তার প্রধান অগ্রাধিকার।
গণসংযোগকালে বাগমারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবেই এই গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঝিকরা ইউনিয়নে ডা. আব্দুল বারীর ক্রমবর্ধমান জনসমর্থন রাজশাহী-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটারদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি হচ্ছে, তা নির্বাচনে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।