চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত জটিলতার নিষ্পত্তি করে আদালত তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচন কমিশনের বাতিল করা মনোনয়ন আবার কার্যকর হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল।
আদালতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে রিটের শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এস এম শাহরিয়ার কবির।
এর আগে প্রার্থিতা ফিরে পেতে সরোয়ার আলমগীর হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের প্রেক্ষাপটে আদালত তার নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে পরে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার জজ আদালত সেই আদেশ স্থগিত করেন।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত দেন। ওই শুনানিতে প্রিমিয়ার লিজিংয়ের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মলয় কুমার রায়।
পরবর্তী সময়ে ঋণ পুনঃতফসিল হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে চেম্বার আদালত আবার হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সরোয়ার আলমগীরের নাম ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ কার্যকর থাকে।
এরও আগে, একই দিনে নির্বাচন কমিশন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিল। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেই তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।
সর্বশেষ হাইকোর্টের আদেশে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা পুনর্বহাল হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আইনি বাধা কাটিয়ে তিনি এখন নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।