চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়েছে। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হওয়ায় মামলাটির রায় এখন যেকোনো দিন ঘোষণা হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার আদেশ দেন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের নেতৃত্বে ছিলেন সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ। অপর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা এই মামলায় গত বছরের ৩০ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে তদন্ত কর্মকর্তা সহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার রয়েছেন ছয়জন। তারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সময় ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। তিনি তখন নিরস্ত্র ছিলেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অন্যতম সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। তার হত্যাকাণ্ড আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়।
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের জুলাই ও আগস্টে দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকার, দলীয় ক্যাডার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের বিচার বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে। আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় সেই বিচারপ্রক্রিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।