রূমিন ফারহানার নির্বাচনী সভায় নারী পুরূষের ঢল!

এফএনএস (মাহবুব খান বাবুল; সরাইল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম
রূমিন ফারহানার নির্বাচনী সভায় নারী পুরূষের ঢল!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি’র সাবেক সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিষ্টার রূমিন ফারহানা। নির্বাচনী জনসভা আর গণসংযোগে ব্যস্ত তিনি। দিনে রাতে দৈনিক ৫-৬ টি সভা করছেন। কোন সভাতেই উপস্থিতি কম নয়। কাণায় কাণায় পরিপূর্ণ হয়ে উপচেপড়া ভীড়। সদর কিংবা অজপাড়া গাঁ। সবজায়গায় একই চিত্র। গত রোববার উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের টিঘর গ্রামে ছিল উনার সভা। বেলা ৩টায় সকলেই প্রস্তুত। অপেক্ষা শুধু রূমিন ফারহানার। বিকাল ৪টা ৫০ মিনিট সভাস্থল একেবারে ফাঁকা। লোকজন বলাবলি করছেন, গ্রাম এলাকা। এখনো লোকজন আসেনি। শেষ পর্যন্ত কী চেয়ার খালি থাকবে? না হয়েছে এর উল্টা। ঠিক ৫টায় গ্রামে প্রবেশ করে রূমিন ফারহাননার গাড়ি। রাস্তার পাশে বাড়ির আঙ্গিনায় ভবনের ছাদে অসংখ্য নারী। তারা হাত নেড়ে রূমিনকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। রূমিনও গাড়ি থেকে হাত নেড়ে তাদেরকে উত্তর দিচ্ছেন। চারিদিক থেকে মিছিল সহকারে হাঁস হাঁস বলে স্রোতের মত আসতে থাকেন নারী পুরূষরা। মাত্র ১০ মিনিটে সভার প্যান্ডেলের নীচে তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রায় সহস্রাধিক নারী পুরূষ চেয়ারের পর সভার চারিদিকে দাঁড়িয়ে থাকেন। সভাস্থলের বাহিরের চিত্র আরো আকর্ষনীয়। টিনের চাল বনের ঘের রাস্তার পাশে শুধু নারী আর নারী। এ যেন আরেক হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা। টিঘর গ্রামে প্রবেশ করে বাঁশি ফুঁ দিলেন। আর কয়েক মিনিটের মধ্যে শুধু শুধু মানুষ আর মানুষ। ষ্টেইজে অবস্থানের পরই মালা আর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হতে থাকেন তিনি। এ চিত্র সকল স্থানে। সর্ব সময়। গ্রামবাসীকে যা বলেছিলেন ওইদিন।

৪০ বছর মার্কা দেখেছেন, এবার ব্যক্তি দেখেন:-

বিকাল ৫টা ১২ মিনিটে বক্তব্য শুরূ করেন তিনি। ব্যারিষ্টার রূমিন ফারহানা বলেন, আপনারা গত ৪০ বছর তো মার্কা দেখেছেন। এবার মার্কা নয় ব্যক্তি দেখেন। আপনাদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা শুনলাম। আমার প্রতি আপনাদের ভালোবাসার কথাও জানলাম। শুনুন, আপনার ইতিমধ্যেই গণমাধ্যমে দেখেছেন। সাদ্দাম হোসেন ছাত্রলীগের একজন কর্মী ছিল। তার স্ত্রী নবজাতক সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করে। সাদ্দাম কারাগারে। তাকে একদিনের জন্য বের করে আনবে এমন কোন নেতা ছিল না। তাকে প্যারোলেও বের করে নাই। তার স্ত্রী ও সন্তানের মৃত দেহ কারাগারে যাওয়ায় ৫ মিনিটের জন্য দেখতে পেয়েছে সাদ্দাম। যাদের পেছনে সাদ্দামের মত কর্মীরা গত ১৫ বছর রাজনীতি করেছে। যাদেরকে সাদ্দামরা নেতা বানিয়েছে। তারা কিন্তু সাদ্দামের পরিবারের খবর নেয় নাই। সাদ্দাম হয়ত ছাত্রলীগ করতো। কিন্তু ছাত্রদলেও ১৫ বছর এমন কর্মী ছিল। যেই নেতা কর্মীর পরিবারের খবর রাখে না। যেই নেতাকে নেতা বানাইতে গিয়ে দিন শেষে কর্মীর জায়গা হয় কারাগারে। কর্মীর স্ত্রী সন্তানকে মরতে হয় বিষ খেয়ে। আপনারা কী সেই রকম নেতা চান? গত ১৫ বছর বিএনপি’র বড় বড় কুতুবের মোবাইল ফোন বন্ধ। নম্বর বিদেশী। কর্মীরা সেই নম্বর জানে না। তখন কাউকে না পাইলেও আপনারা আমাকে পাইছেন। নেতা বাচাইয়ের সময়ও সাবধানে বাইচেন। সাদ্দামের পরিণাম যেন বাংলাদেশের কোন দলের কোন কর্মীর কপালে না ঘটে। তিনি বলেন,  আরেকটি ঘটনা শুনুন। আওয়ামী লীগেরটা বলেছি। এখন বিএনপি’র টা শুনুন। বিএনপি’র এক স্বতন্ত্র প্রার্থী। নাম মোহাম্মদ আলী। সুপ্রীম কোর্টের উকিল। স্বতন্ত্র দাঁড়াইল। নেতা কর্মীরা জান জীবন দিয়ে খাঁটল। কাউকে কিছু না বলেই ওই নেতা কালকে আসন ছাইড়া ঢাকা চইলা গেছে। আপনার কী এই রকম নেতা চান? আমার কোন কর্মীর একটা পশম ধরার আগে আমার রক্তের উপর দিয়ে যাইতে হবে। আমার বাবা নাই। ভাই বোন নাই। আমার আপনারা ছাড়া কেউ নাই। সুতরাং সরকারী দলে যাই আর বিরোধী দলে যাই। আর স্বতন্ত্রে থাকি। আমার জীবন থাকতে আমার কর্মীর একটা পশমেও কেউ হাত দিতে পারবে না। টিঘরে আসার পথে পথে কর্মীরা মা বোনরা দাঁড়ানো। আমি হাত নাড়বো তাই তারা দরজার ফাঁকে, বাড়ির ছাদে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে। সেই কারণেই আজকে আমি এখানে আসতে পারছি। আমি যে চেয়ারটাতে বসছি। এই ষ্টেইজটাতে দাঁড়াইছি। এইটার পেছনে আমার কর্মীদের শ্রম ঘাম অর্থ ব্যয় করেছে। তাই এই কর্মীর মর্যাদা যদি আমি দিতে না পারি। পাঁচবছর পর আমাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিবেন। এই কর্মীর সম্মান যদি আমি দিতে না পারি। এই কর্মীর কথা যদি আমি না রাখতে পারি। আগামী পাঁচ বছর পর আপনারা আমাকে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিয়ে দিবেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। রাস্তা গুলির দিকে তাকিয়ে আছি। অনেক উন্নয়ন। অনেক সুন্দর। কিন্তু আমরা তো উন্নয়ন বঞ্ছিত। স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর আপনারা কাকে ভোট দিয়েছেন? কাকে এমপি বানিয়েছেন? আগামী নির্বাচনটায় আপনারা যদি আমার পাশে থাকেন। মা বোনকে সাথে নিয়ে যদি আমাকে ভোট দেন। ইনশাল্লাহ আমি শুন্য থেকে শুরূ করব। আমার নির্বাচনী এলাকার ১৯টি ইউনিয়নকে আমি উন্নয়নের মডেলে পরিণত করব। এই কাজে আমি আপনাদের সকলের পরামর্শ ও মতামত নিয়েই সাজাতে চাই। মনে রাখবেন এমপি যদি চুর না হয় তবে এলাকার রাস্তাঘাট ব্রিজ কার্লভার্টের কাজ মানসম্মত হবে। এমপি যদি বরাদ্ধের ৫০ ভাগ আর চামচা চামন্ডারা যদি ২৫ ভাগ পকেটে ঢুকাই। তবে ভেস্তে যাবে উন্নয়ন। তাই আপনারা বুঝে শুনে এমপি সিলেকশন করতে হবে। দলমত নেই। আমি কোন দলের প্রার্থীও না। আমার কে বিরোধীতা করেছে? সেটা দেখব না। প্রাপ্য ভাতা আমার বিরোধীতাকারী ব্যক্তি সর্বাগ্রে পাবেন। সরকারী হাসপাতালে ডাক্তার নাই ঔষধ নেই মেশিন নেই। আমি যদি এমপি হতে পারি সরকারী হাসপাতালেই চিকিৎসা নিব। দেখি এ গুলি থাকে না। এই জেলায় কোন বিশ্ববিদ্যালয় নেই। ইনশাল্লাহ এই নেইটা দূর করার চেষ্টা আমি করব। তিনি ভোটের দিনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ফুটবল খেলায় যদি গোল না করতে পারে তখন  কী করে? অযথা ফাউল করে। খেয়াল রাখবেন কেউ নির্বাচনের দিন যেন যেন কেন্দ্রে ও আমার হাঁসের সাথে ফাউল না করতে পারে। যদি করে তখন উচিত জবাবটা দিয়ে দিবেন। আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সাথে আলাপ করেছি। বিদেশী কুটনীতিকদের সাথে কথা হয়েছে। তারা সকলেই নজর থাকবে সরাইলের দিকে। আমি নারী। আমি স্বতন্ত্র। আমি প্রথম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমার এলাকা থেকে নির্বাচন করছি। তাই আমার এলাকার চতুর্পাশে নজর থাকবে। আমি পুলিশ প্রশাসন আমলাসহ বড় বড় রাজনৈতিক দলকে বিনীতভাবে জানিয়ে দেয় জনতা যেই প্রার্থীর সাথে থাকে সেই প্রার্থীর সাথে ফাউল করা আর নিজের গলায় দড়ি দেওয়া একই কথা। ১২ই যত বড়ই দল হউন। যত বড় মতই হউন। ফাউলের চিন্তাও করবেন না।            

প্রসঙ্গত: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন রূমিন ফারহানা। তিনি পাননি মনোনয়ন। দল জোটের প্রার্থীকে দিয়েছেন মনোনয়ন। আর সেখানেই ঘটে বিপত্তি। নির্বাচনী এলাকার মানুষ উনাকে ছাড়তে নারাজ। মাঠ ও জনগণ না ছাড়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন তিনিও। প্রার্থী হন স্বতন্ত্র। কোন ধরণের প্রতিকূলতাকে পাত্তা দিচ্ছেন না রূমিন। পুরো উদ্যমে ছুটে চলেছেন নির্বাচনী মাঠে। যখন যেখানে যাচ্ছেন দ্রূততম সময়ের মধ্যে হাজার হাজার নারী পুরূষ জড়ো হয়ে যাচ্ছেন। বক্তৃতায় পটু রূমিন ফারহানার বক্তব্য শুনার জন্য শুধু আসছেন না। প্রত্যেকটা মানুষ শেষ পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে