রাজশাহীতে বাসচাপায় তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় চালক সাইফুল ইসলামকে (৪৮) কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বাড়ি নাটোর সদরের কানাইখালী দক্ষিণ পটুয়াপাড়ায়। দুর্ঘটনার পর পুলিশকে হেনস্থা করার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ( ২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজশাহী নগর পুলিশ (আরএমপি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ হেনস্থার অভিযোগে গ্রেপ্তার তরুণের নাম হাসানুর রহমান ওরফে তুহিন (২৬)। তার বাড়ি রাজশাহী শহরের শাহমখদুম থানার বড়বনগ্রাম চকপাড়ায়। পুলিশ হেনস্থার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আর বাসচালককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে সড়ক পরিবহন আইনে দায়ের করা মামলায়।
এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি বিকেলে রাজশাহীর বেলপুকুরের পল্লাপুকুর এলাকায় রাজকীয় পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত ছয়জনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও এক নারী ও পুরুষ মারা যান। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সেখানে যান বেলপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) পুলিশের একটি দল।
এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা অভিযোগ তোলে, পুলিশ ঘাতক বাসচালককে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। এ অভিযোগে পুলিশের এক এসআইকে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। অবরুদ্ধ রাখা হয় ওসিকেও। প্রায় এক ঘণ্টা পর অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সাথে সাথেই বাসচালক দ্রুত বাস নিয়ে পালিয়ে যান। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে গুজব ছড়ানো হয় যে, পুলিশ বাস চালককে ছেড়ে দিয়েছে, যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট এবং ভিত্তিহীন। এই মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে ছাত্র-জনতা উত্তেজিত হয়ে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করতে না দেয়াসহ বেলপুকুর থানার ওসি এবং একজন এসআইক জিম্মি করেন। তাদের শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন এবং এসআইকে কান ধরতে বাধ্য করে তার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। গ্রেপ্তার তুহিন এই ‘মবের’ মূলহোতা বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, এ ঘটনায় বেলপুকুর থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি এবং সরকারি কাজে বাঁধা প্রদান ও পুলিশ সদস্যদের হেনস্থা করার অপরাধে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তুহিনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাসচালককেও আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।