শেরপুর ১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) :
| আপডেট: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম | প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৭:৪৩ পিএম
শেরপুর ১ আসনে ত্রিমুখী লড়াই

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আর এ নির্বাচনে ভোটের মাঠে লড়তে শেরপুরের সংসদীয় ৩ টি আসনের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। তারা সভা সমাবেশ সহ ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকার উন্নয়নে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট চাইছেন।

শেরপুর- ১ (শেরপুর সদর) আসনে ভোটের মাঠে এবার ৬ জন প্রার্থী লড়ছেন । এরা হলেন, সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংংকা (বিএনপি),রাশেদুল ইসলাম রাশেদ (জামায়াত), মো. লিখন মিয়া (এনসিপি), মো. মাহমুদুল হক মনি (জাতীয় পার্টি), শফিকুল ইসলাম মাসুদ (স্বতন্ত্র) ও মো. ইলিয়াস উদ্দিন (স্বতন্ত্র)। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন।

শেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংংকা ২০১৮ সালে দেশের সর্বকনিষ্ঠ সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে শেরপুর-১ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে প্রভাবিত ওই নির্বাচনে জনপ্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। অপর বিএনপির বিদ্রোহী বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী শেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক শফিকুল ইসলাম মাসুদ । তিনি  ২০১৯ সালে বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে শেরপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে ৫৫ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। জামায়াতের প্রার্থী হলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ  নির্বাচনে এই আসনে চার দলীয় জোট প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মরহুম কামারুজ্জামান ১ লাখ ১০ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। এদিকে শেরপুরের নির্বাচনী মাঠে বিএনপির মনোনীত ও বিদ্রোহীদের আভ্যন্তরীণ বিভেদ থাকলেও উল্টো চিত্র জামায়াতে। দলটির নেতা কর্মীরা সঙ্ঘবদ্ধ।

স্থানীয় ভোটাররা বলেন, এবার ভোটের মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংংকা, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও জামায়াত প্রার্থী রাশেদুল ইসলামর মধ্যে ত্রিমুখী লড়াই হবে। নারী ও তরুণ ভোটারদের ভোট যে প্রার্থী বেশি পাবেন তারই জয়ের পাল্লা ভারী হবে। তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। তারা আশাবাদী দীর্ঘদিন পর সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। এটি বাস্তবায়িত হলে সরকারের নয় জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে যাবেন।


বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংংকা বলেন , ধানের শীষ কোনো একক ব্যক্তির প্রতীক নয়। এই প্রতীকের জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীরা অনেক জেল-জুলুম ও অত্যাচার সহ্য করেছেন। তাই সবাইকে সঙ্গে  নিয়ে একটি সুন্দর শেরপুর গড়ে তুলতে চাই। পিছিয়ে পড়া শেরপুরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগে উন্নত করে তুলতে চাই। আমি সেবক হিসেবে এমপি হতে চাই এবং সবার সেবা করতে চাই।

বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন , জনগণের দাবির মুখে নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। জনগণ আমার প্রতি আস্থা রেখেছে। আমিও তাদের প্রতি আস্থা রেখেছি। ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি এবং বর্তমানে একটি গণজোয়ার আমার আমার পক্ষে সৃষ্টি হয়েছে। আমি জনগণের প্রার্থী হিসেবে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। জনগণ আমাকে নিরাশ করবে না। আমরা চাই উৎসবমুখর পরিবেশে ও শান্তিপূর্ণভাবে এবার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জনগণ যাকে চাইবে তাকে ভোট দিবে । যিনি নির্বাচিত হবেন আমরা তাকেই মেনে নেব এবং তার সঙ্গে কাজ করবো।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে