আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতোই ঘনিয়ে আসছে ততোই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও তাদের কর্মী সমর্থকদের প্রচার-প্রচারনায় বরিশাল জেলার ছয়টি সংসদীয় আসন বেশ জমে উঠেছে। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের সমর্থক নারী ও পুরুষের একাধিক টিম প্রতিদিন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোটদানের জন্য ভোটারদের মন আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে জমে উঠেছে বরিশাল-১ (গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া) নির্বাচনী এলাকা। এ আসনের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গৌরনদী উপজেলার বিভিন্নপ্রান্তে সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য এম জহির উদ্দিন স্বপন। গণসংযোগের সময় পথসভায় জহির উদ্দিন স্বপন বলেন-এবারের ব্যালটের মাধ্যমে আমরা সদ্য প্রয়াত আমাদের মাতা বেগম খালেদা জিয়াকে কবরে শান্তি দিতে চাই, আর দিল্লীতে পালিয়ে থাকা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে শিক্ষা দিতে চাই। তিনি আরও বলেছেন, ছিনতাই কিংবা ডাকাতি করে নয়, অবাধ সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই। আমরা দেশ নায়ক তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করতে চাই। এই মুহুর্তে আমাদের দেশের সামনে, জাতীর সামনে তারেক রহমান ছাড়া অন্যকোন ভবিষ্যত নাই।জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেছেন-আমাদের নেতা তারেক রহমান যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের ঘোষণা দিয়েছেন তার সুফল পেতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহবান জানান। অপরদিকে ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, দাঁড়িপাল্লা মার্কার কামরুল ইসলাম খান, হাতপাখা মার্কার রাসেল সরদার মেহেদী ও বাইসাইকেল মার্কার প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী প্রতিদিনই কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান অভিযোগ করেছেন, প্রচারনা শুরুর পর থেকে একাধিকার তার নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা এবং তার কর্মী সমর্থকদের মারধর করা হয়েছে। এসব বাঁধা উপেক্ষা করেই তিনি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে নিরব ভোট বিপ্লবে তিনি (ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান) বিজয়ী হবেন বলেও উল্লেখ করেন। অপরদিকে বসে নেই জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী হাফেজ মাওলানা কামরুল ইসলাম খান ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা মার্কার প্রার্থী রাসেল সরদার মেহেদী এবং জেপি মনোনীত বাইসাইকেল মার্কার প্রার্থী ছেরনিয়াবাত সেকেন্দার আলী। এ তিন প্রার্থীও প্রতিদিনই তাদের কর্মী সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। ভাগ হতে পারে বিএনপির ভোট : বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে, বরিশাল-১ নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির ভোট ভাগ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখানে ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য জহির উদ্দিন স্বপনের প্রতিদ্বন্ধি বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।উল্লেখ্য, ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান এ আসন থেকে বিগত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধিতা করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। এছাড়াও দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সাথে তিনি (সোবহান) যুক্ত ছিলেন। যে কারনে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সোবহানের বাক্সে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
ফ্যাক্ট সংখ্যালঘু ও আওমায়ী লীগের ভোটার : এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটাররা প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারনা করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। একটি সংস্থার তথ্যমতে, বরিশাল-১ আসনে প্রায় ৪০% সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছে। বিশেষ করে আগৈলঝাড়ায় সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা বেশি। যেসব প্রার্থী সংখ্যালঘু ভোটারদের মন আকৃষ্ট করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন, সেই প্রার্থীই ভোটের মাঠে এগিয়ে থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও এ দুই উপজেলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটাররা শেষপর্যন্ত ভোট কেন্দ্রে গিয়ে কোন একক প্রার্থীকে ভোট প্রদান করলে ভোটের হিসেবে উল্টে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোটাররা একটি ফ্যাক্ট হয়ে উঠছে।
স্বচ্ছ ভোট গ্রহনের প্রতিশ্রুতি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহনে সর্বোচ্চ পেশা দারিত্ব বজায় রেখে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও রিটানিং অফিসার মো. খায়রুল আলম সুমন। তিনি জানিয়েছেন-ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সবধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।