বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণতন্ত্র ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বসুন্ধরার জামায়াত কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় জানানো হয়, শান্তি ও সমৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। একই দিনে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, জামায়াত আমিরের কাছ থেকে আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি জেনেছেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, শিল্প ও বাণিজ্য, জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন বলেও জানানো হয়। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের জানান, আলোচনায় নির্বাচনের পরিবেশ ও প্রস্তুতি প্রসঙ্গ গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রদূত জানতে চেয়েছেন নির্বাচনের অবস্থা কেমন, পরিবেশটা কী এবং আমাদের প্রস্তুতি কী।” এ সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচনের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগ তোলা হয়।
জুবায়ের জানান, সাম্প্রতিক সময়ে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার বিষয়টি বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। শেরপুরে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।” একই সঙ্গে সংস্কার, গণভোট এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত নির্বাচন কমিশনসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে তার আলোচনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানান। তিনি বলেন, যে দলই সরকার গঠন করুক, তাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং ক্ষমতা হস্তান্তর যেন নির্বিঘ্ন হয়, সেটিই যুক্তরাষ্ট্র চায়।
বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কনসোলার এরিক গিলম্যান, পাবলিক অফিসার মনিকা এল সাই, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট এবং পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।
এদিনই জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। ওই বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশ ও ইইউর পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।