শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিমের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় ইমামতি করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ড. সামিউল হক ফারুকী। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৫ টা ২৮ মিনিটে শ্রীবরদী সরকারি কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ১০ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসুল্লি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন বলে জানান শেরপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান। তিনি জানান, এ ঘটনায় আগামীকাল শুক্রবার (৩০ জানুয়ারী) দুপুরে জেলা শহরে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। জানাজায় শেরপুর-২(নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া ভিপির সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন শেরপুর-১ (সদর) আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম, শেরপুর-৩ (শ্রীবর্দী-ঝিনাইগাতী) আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. নুরুজ্জামান বাদল, এনসিপির জেলা সমন্বয়কারী ইঞ্জিনিয়ার মো. লিখন মিয়া, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ সম্পাদক ইউসুফ ইসলাহী, জামালপুর সাবেক জেলা আমীর নাজমুল হক সাঈদী প্রমুখ। এরপর রাত সাড়ে ৮টায় শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের গোপালখিলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করা হবে। এর আগে, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) শেরপুর-৩ সংসদীয় আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এটি সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হন। ওই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে ঝিনাইগাতীজুড়ে সুনসান পরিবেশ বিরাজ করছে। রাস্তাঘাটে লোকজনের উপস্থিতি কম। খোলেনি উপজেলা সদর বাজারের সব দোকান। ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতী ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা বলেন, বর্তমানে ঝিনাইগাতীসহ জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।