রেকর্ড ছোঁয়ার পর হঠাৎ ধস, দুদিনে ভরিতে সোনার দাম কমলো ৩০ হাজারের বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ১১:০৮ এএম
রেকর্ড ছোঁয়ার পর হঠাৎ ধস, দুদিনে ভরিতে সোনার দাম কমলো ৩০ হাজারের বেশি

রেকর্ড দামে পৌঁছানোর পর হঠাৎই বড় ধাক্কা খেল দেশের স্বর্ণবাজার। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ভরিপ্রতি সোনার দাম কমেছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি সর্বশেষ দফায় ভরিতে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। এতে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরি নেমে এসেছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়। এর আগের দুই দিনে দফায় দফায় দাম কমানোয় বাজারে বড় ধরনের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারে হঠাৎ দরপতনই এই কমার মূল কারণ। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস ডট ওআরজি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৮৯০ ডলারে। একদিন আগেও এই দাম ছিল প্রায় ৫ হাজার ২০০ ডলার। এরও আগে বৃহস্পতিবার সকালে দাম উঠে গিয়েছিল ৫ হাজার ৫৫০ ডলারের ওপরে, যা বিশ্ববাজারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তর।

বিশ্লেষকদের হিসাবে, সর্বোচ্চ দরে পৌঁছানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৬৬০ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পতনের পরিমাণ ৮০ হাজার টাকারও বেশি। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়লেও রেকর্ড দামের পর বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। পাশাপাশি ডলার শক্তিশালী হওয়া এবং সুদের হার দীর্ঘ সময় বেশি থাকতে পারে, এমন ইঙ্গিতও সোনার দামে চাপ তৈরি করেছে।

বাজুস জানিয়েছে, তেজাবি বা পিওর গোল্ডের আন্তর্জাতিক দাম কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারে দাম সমন্বয় করা হয়েছে। সর্বশেষ নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা।

সোনার সঙ্গে সঙ্গে রুপার বাজারেও প্রভাব পড়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৭ হাজার ২৯০ টাকা। ২১ ক্যারেটের রুপা বিক্রি হচ্ছে ভরিপ্রতি ৬ হাজার ৯৪০ টাকায়। ১৮ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশের বাজারেও একাধিক দফায় দাম বাড়ায় বাজুস। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে একবারেই ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানো হয়। এতে ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম উঠে যায় ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবে ২৪ ঘণ্টা না যেতেই শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ভরিপ্রতি সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৬০০ টাকা কমানোর ঘোষণা আসে। সেই দাম কার্যকর হয়েছিল শুক্রবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণবাজারে এমন ওঠানামা আরও কিছুদিন চলতে পারে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে তাই সতর্ক অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে