রাজশাহীর তানোরে প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ এক রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন হবার মাত্র ৫ দিনের মাথায় উঠে যেতে শুরু করেছে পিচ ও পাথর। এছাড়াও রাস্তার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও পুরত্ব সিডিউল মতে নির্মাণ হয়নি। এতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। রাস্তার বেডে নিম্নমাণের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের এলজিইডি’র (আরডিআরআই) ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম প্রকল্প থেকে তানোর উপজেলার কামারগাঁ ইউনিয়নের হাতিশাইল গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৯৭ লাখ টাকা। কিন্তু লেস দিয়ে ৯২ লাখ টাকায় কাজের কার্যাদেশ পায় এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে, মুল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজের কার্যাদেশ কিনে নেয় রাজশাহী শহরের বাসিন্দা ঠিকাদার রুবেল হোসেন। তবে মুল ঠিকাদারের কোনো তথ্যই দিতে রাজি হননি তানোর উপজেলা এলজিইডি অফিস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি রাস্তার কার্পেটিং কাজ সম্পন্ন করা হয়। কিন্তু রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর আর ইট ও বালি ব্যবহার করে পরিষ্কার ছাড়াই রাস্তাটি কার্পেটিং করা হয়। স্থানীদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘষা দিলেই সহজেই পিচের স্তর উঠে আসছে। এসময় পথচারী মান্নান, সুজন ও মামুন আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তায় পরিমাণ মতো পিচ দেয়া হয়নি। একারণে পা দিয়ে জোরে ঘষা দিলেই পাথর উঠে যাচ্ছে। পিচ ঢালাইয়ের সময় রোলার দিয়ে ঠিকমতো রুলিং করা হয়নি। নাম মাত্র দায়সারা রাস্তাটির কাজ করা হয়েছে। সরেজমিন রাস্তাটির কাজ তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হবে।
ভ্যানচালক আবুল কাশেম বলেন, এতো নিম্নমানের কাজ হয়েছে, ছয় মাসও টিকবে না এই রাস্তা। এখন যদি বৃষ্টি হয়, পুরো রাস্তা নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার রাস্তা নির্মাণে কোটি টাকা ব্যয় করছে। অথচ ঠিকাদাররা দায়সারা কাজ করে অর্ধেক টাকা লোপাট করছে। কয়েকদিন না যেতেই সব উঠে যেতে শুরু করেছে। এর চেয়ে আগের রাস্তা ভালো ছিলো।
স্থানীয় একজন ঠিকাদার জানান, পাঁকা সড়কের পিচ সহজে উঠে আসার কারণ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও সঠিক অনুপাতে পাথর ও বিটুমিন না মেশানো। এতে রাস্তার উপরের স্তর দুর্বল হয়ে পড়ে ও স্থায়িত্ব কমে যায়। স্থানীয় সচেতন মহল এঘটনায় সম্পৃক্তদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
এব্যাপারে তানোর উপজেলা প্রকৌশল মোসা. নুরনাহার বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষে মাসুদ করিম রাস্তার নির্মাণকাজ দেখভাল করে বুঝে নিয়েছেন। এছাড়াও অফিসের লোকজন সরেজমিন নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেছেন। এরপরও কাজে কোনো অনিয়ম হলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।