আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নওগাঁ-১ আসনের ৫ প্রার্থীর নির্বাচনী মাঠ সরগরম। ফলাফল নিজের ঘরে উঠানোর লক্ষ্যে এই আসনে কোমর বেঁধে ভোটের মাঠে নেমে পড়েছেন স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। ৪৬ নওগাঁ-১ আসনটি (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) উপজেলা নিয়ে গঠিত। এবারে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ৪ জন দলীয় প্রার্থী ও একজন সতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নিয়াতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নওগাঁ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামি আন্দোলনের মাও: আব্দুল হক শাহ্ এবং লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির(এ) উপজেলা কমিটির সভাপতি আকবর আলী কালু ও মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে বিএনপির সদ্য বহিস্কৃত নেতা সাবেক সংসদ সদস্য নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরী। ইতোমধ্যে প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে ভোট যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ভোটের উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। প্রার্থীরা আসনটির বিভিন্ন স্থানে তাঁদের ব্যানার, ফেস্টুন টানিয়ে দিয়েছেন। বিতরণ করছেন নিজনিজ প্রতীক সম্বলিত লিফলেট। সে সাথে চলছে মাইকিং। এছাড়াও প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, গণসংযোগ ও পথসভা করছেন। নির্বাচিত হলে কে কি করবেন তা বলে সাধারন ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষনের চেষ্টা করছেন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মুলত: ধানের শীষ ও দাড়িপাল্লার মধ্যে। তবে মোটসাইকেল প্রতীকের সাথে ত্রিমুখি লড়াইয়ের কথাও বলছেন অনেকে। প্রার্থীরা আসনটি নিজের দখলে রাখার জন্য নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আসনটিতে বিগত সময়ে বিএনপি উন্নয়ন করার কারনে এবারও তারা আসনটি ধরে রাখতে পারবেন এবং জনগণ তাদের পক্ষে রায় দিবেন বলে মনে করছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অতীতের সকল ভেদাভেদ ভুলে বিএনপি’র ঘাটি খ্যাত আসনটি পুনুরুদ্ধারের জন্য সকল নেতাকর্মী এক হয়ে মাঠে কাজ করছেন বলে জানান, পোরশা উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক তৌফিকুর রহমান চৌধুরী ও সদস্য সচিব সাদেকুল ইসলাম। অপরদিকে দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লা নিয়ে লড়ছেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম। দলটির নেতাকর্মীরা আশা করছেন জনগণের রায়ের। উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী শরিফুল ইসলাম জানান, এবারে এ আসনটি তারা নিজেদের ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন এবং সে লক্ষ্যেই ভোটের মাঠে কাজ করছেন। এরছাড়াও সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে লড়ছেন এই আসনটি থেকে তিনবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ডা: ছালেক চৌধুরী। সর্বশেষ ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি আসনটি উদ্ধার করতে পারবেন বলে আশা করছেন তার সমর্থকরা। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওঃ আব্দুল হক শাহ্ ও জাতীয়পার্টি প্রার্থী আকবর আলী কালু ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন এবং আশা করছেন জনগণ তাদের পক্ষে রায় দিবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৪২ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৬৬টি।