মোবাইল ও টিভি দেখা নিয়ে

চিতলমারীতে ২ বোনের বিরোধ, ছোট বোনের আত্মহত্যা

এফএনএস (মোঃ একরামুল হক মুন্সী; চিতলমারী, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:২৪ পিএম
চিতলমারীতে ২ বোনের বিরোধ, ছোট বোনের আত্মহত্যা

বাগেরহাটের চিতলমারীতে মোবাইল ও টিভি দেখাকে কেন্দ্র করে ছোট বোন কর্তৃক বড় বোন কে মার পিটের ঘটনায় মায়ের বকনিতে অভিমান করে ৮ বছরের আয়শা নামের এক শিশু গলে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আয়শা উপজেলার শিবপুর উত্তর পাড়া সৌদী প্রবাসী মোঃ শফিক শেখের মেয়ে। শফিক শেখের তিন মেয়ের মধ্যে চতুর্থ শ্রেনিতে পড়ুয়া আয়শা ছিলো দ্বিতিয় মেয়ে। আয়শার “মা” তানিয়া বেগম (২৪) আশ্রু প্লাবিত নয়নে বলেন আমার এই মেয়েটি ছিলো একটু জেদী। সে আমার বাবার গ্রামের বাড়ী থেকে পড়া-লেখা করছিলো। কয়েক দিন আগে বাড়ি আসে। এ অবস্থায় শুক্রবার (৩০জানুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে বড় মেয়ে রাবেয়া (১২) এবং আয়াশা (৮) দুইবোন একত্রে টিভি এবং মোবাই ফোন দেখার এক পর্যায়ে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় আয়শা রাবেয়ার গায়ে হাত তোলে, রাবেয়া বিষটি আমাকে জানায়। আমি বড় বোনের গায়ে হাত দেয়ার অপরাধে ওকে বকনি দিয়ে গায়ে দুটি চড় মারি।  এ সময় আমার বসত ঘর থেকে সামনে অন্য একটি ঘরে গিয়ে আয়শা দরজা বন্ধ করে দেয়। ধরনা করি পরে বেরিয়ে আসবে। অনেক সময় অতিক্রম হওয়ায় আমার সন্দেহ জাগে। আমি বলি ও মা’ তুমি বেরিয়ে আসো; তোমাকে আর কোন দিন কিছু বলবনা।  এ সময় সাড়া-শব্দ না পেয়ে পাশের বাড়ির মিনি বেগমকে নিয়ে শাবল দিয়ে দরজা ভেঙ্গে দেখি আমার মা’ আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে গলে ফাঁস দিয়ে ঝুলে আছে। এ সময় দ্রুত চিতলমারী স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নেয়া হলে, ডাক্তার আয়শাকে মৃত ঘোষনা করে। আমি ওর প্রবাসী বাবাকে কি জবাব দেব আপনারা বলে দেন। এভাবে শিশু আয়শার মা’ তানিয়া বেগম বারবার বিলাপ করছিলেন। এসপি সার্কেল বাগেরহাট সদর  মো: শামীম ও চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নজরুল ইসলাম সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। ওসি নজরুল ইসলাম বলেন আয়শার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এব্যপারে থানায় একটি অপমৃত মামলা রুজু হয়েছে। মামলা নং- ৪ তারিখ-৩১/০১-২০২৬।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে