শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

এফএনএস (আতাউর রহমান কাজল; শ্রীমঙ্গল, মৌলভী বাজার) : | প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

শীতপ্রবণ চা-বাগানঘেরা জনপদ শ্রীমঙ্গল। কুয়াশার চাদরে ঢাকা ভোর, চায়ের ধোঁয়া ওঠা দোকান, আগুন পোহানো শ্রমজীবী মানুষ-শীত এলেই এমন দৃশ্য চিরচেনা। তবে আজ শনিবার সেই শীত আবারো জানান দিয়েছে তার উপস্থিতি। শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শ্রীমঙ্গলের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শনিবার সকাল ৯টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর আগে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে সকালে সূর্যের দেখা মিলছে। এতে শীতের তীব্রতা অনেক কমেছে। তবে রাত ও ভোরে শীত এখনও অনুভূত হচ্ছে কিছুটা'। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে। চলতি জানুয়ারির ৮ তারিখে এখানে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার সকালে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল বেশ বেশি। সকাল ৬টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ, যা সকাল ৯টায় কমে দাঁড়ায় ৭৪ শতাংশে। এদিকে শীতের প্রভাব কেটে গেলেও এখনও অনেকে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা বৈদ্য। তিনি জানান, “বর্তমানে হাসপাতালে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী আসছেন।  শ্রীমঙ্গলের আবহাওয়ার ইতিহাসেও শীতের কিছু চরম নজির রয়েছে। ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল মাত্র ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩.৩ ডিগ্রি, ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি ও ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি এবং ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। শীতপ্রবণ এই জনপদে সূর্যের উষ্ণতা দিনে স্বস্তি দিলেও ভোর আর রাত এখনো শীতের দখলেই। শ্রীমঙ্গলের মানুষ তাই অপেক্ষায়-আর ক’টা ঠান্ডা ভোর পেরোলে বিদায় নেবে শীত?

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে