ঝিনাইদহ-৪ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে এবার দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক দৃষ্টান্ত।যেখানে নির্বাচনী পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে মামলা,হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা, সেখানে ভিন্ন পথে হাঁটলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁন।শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কুশোবাড়িয়া বাজার এলাকায় রাশেদ খাঁনের ধানের শিষ প্রতীকের কয়েকটি নির্বাচনী পোস্টার ছেঁড়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় পুলিশ ৩ জন কিশোরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে উত্তেজনার সেই মুহূর্তে প্রতিহিংসার পথে না গিয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন ধানের শিষ প্রার্থী রাশেদ খাঁন নিজেই।খবর পেয়ে তিনি সরাসরি থানায় যান এবং আটক কিশোরদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা-মোকদ্দমায় না জড়িয়ে তাদের মুক্ত করে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানান। তার অনুরোধে পুলিশ আটক কিশোরদের ছেড়ে দেয়। মুক্তি পাওয়ার পর অভিযুক্ত কিশোররা বলেন, আমরা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা কারও প্ররোচনায় এই কাজ করিনি। কিশোর সুলভ ভুল আর আবেগের বশেই এমন কাজ হয়ে গেছে। পরে বুঝতে পারি আমরা খুব বড় একটা ভুল করেছি। পুলিশ আমাদের আটক করার পর আমরা খুব ভয় পেয়ে যাই। মনে হচ্ছিল আমাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। কিন্তু রাশেদ ভাই নিজে থানায় এসে আমাদের ছাড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। একজন রাজনৈতিক নেতা হয়েও তিনি আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত মানবিক আচরণ করেছেন। আমাদের ভুলের জন্য শাস্তির বদলে ভালোবাসা দিয়ে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমরা এই ঘটনার জন্য আন্তরিক ভাবে দুঃখিত এবং ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করব না। আমরা এবং আমাদের পরিবারের সবাই রাশেদ ভাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এ বিষয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, ওরা সবাই কিশোর। আবেগের বশে বা না বুঝে হয়তো এমন ভুল করেছে। ছোট একটা ভুলের জন্য মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে তাদের জীবন নষ্ট করতে চাই না। রাজনীতি প্রতিহিংসার জায়গা নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য। আজ যদি আমি কঠোর হই, তাহলে ওরা শিক্ষা পাবে না, বরং ভয় ও ক্ষোভ নিয়ে বড় হবে। ভালোবাসা আর ক্ষমা দিয়েই মানুষকে সংশোধন করা যায়। আমি চাই এই কিশোররা ভুল থেকে শিক্ষা নিক, পড়াশোনায় মন দিক এবং দেশের ভালো নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক। রাজনীতিতে সহনশীলতা ও মানবিকতার চর্চা জরুরি, আমি সেটাই দেখাতে চেয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে রাশেদ খাঁনের এই মানবিক সিদ্ধান্ত এলাকায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি পেয়ে কিশোররা রাশেদ খাঁনকে জড়িয়ে ধরে।মানবিকতা ও সহনশীলতার এই দৃষ্টান্ত ঝিনাইদহ-৪ আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন বার্তা দিল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।