গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ‘জনগণের মুখোমুখি’ হয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন রংপুর-১ আসনের প্রার্থীরা। এ সময় তারা পিছিয়ে পড়া রংপুরকে বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত করে উন্নয়নের ধারায় এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে রংপুর-১ আসনের পাঁচজন প্রার্থী অংশ নেন। সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জুর সঞ্চালনা ও পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জেলা সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আমিন, গঙ্গাচড়া সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল আখের মিঞা। সভাপতিত্ব করেন সুজনের গঙ্গাচড়া উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবী রানা। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোকাররম হোসেন সুজন বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোরালো ভূমিকা রাখাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া রায়হান সিরাজী বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি রংপুর-১ আসনকে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন হিসাবে গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি এ আসনে ঘুষ, দুর্নীতি, অপরাধ রোধসহ ও বেকারমুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন এবং গ্রাম তথা তৃণমূল থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়নভিত্তিক অঞ্চল গড়ে তুলবেন। হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে থাকা ইসলামী আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা বলেন, নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার পাশাপাশি এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে কাজ করব। একই সঙ্গে হামলা ও মামলামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করবে চেষ্টা করব। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী’র আহসানুল আরেফিন (কাঁচি) ও ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মো. আনাস (চেয়ার) বক্তব্য রাখেন। তারা সংস্কার, বিচার ও সুশাসন নিশ্চিতকরণসহ বৈষম্যমুক্ত জবাবদিহিতা মূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুরকে এগিয়ে নেয়ার কথা বলেন। ‘একটি রাষ্ট্রের নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’ স্লোগানে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের দায়িত্ব সম্পর্কিত অঙ্গীকারনামা পাঠ করে শোনান সুজনের গঙ্গাচড়া উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ মো. নুরুন্নবী রানা। অনুষ্ঠানে সংগঠনটির জেলা ও উপজেলা কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা ছাড়াও প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক এবং স্থানীয় ভোটাররা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য; তিস্তা নদীবেষ্টিত গঙ্গাচড়া উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনের ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২২৭ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯২ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৩১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। এ আসন থেকে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।