বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বসত বাড়ির জমিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মেদাকুল গ্রামের। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ওই গ্রামের বাসিন্দা ও বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সুজন অভিযোগ করে বলেন, বিগত ৫০ বছর ধরে মেদাকুল মৌজার ৮৪ শতক জমিতে ডিগ্রীমূলে আমরা বসবাস করে আসছি। এরইমধ্যে আমাদের বসবাসকৃত জমি আমাদের অজান্তেই “ক”তালিকাভুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০১২ সালের দিকে রেকর্ড সংশোধনের জন্য আমরা আদালতে মামলা দায়ের করি। মামলা চলমান অবস্থায় ২০২১ সালের দিকে আমাদের জমিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মানের জন্য উপজেলা প্রশাসন তোরজোর শুরু করেন। বিষয়টি জানতে পেরে আমরা আদালতের সরনাপন্ন হই। আদালত থেকে জমির উপর স্থিতিবস্থা জারি করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, আদালতের স্থিতিবস্থা জারি থাকার পরেও শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি কুচক্রী মহল উপজেলা প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদের রোপিত গাছপালা নিলাম দিয়ে আমার মুরগীর ফার্ম ভাঙচুর করে জোরপূর্বক আমাদের জমিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর নির্মান করে। অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, সেদিন আমাদের কোন কথাই শুনেননি কিংবা আদালতের নির্দেশনাও মানা হয়নি। তারা আইন-আদালত উপেক্ষা করে আমাদের জমিতে আশ্রয়ন প্রকল্পের ১৮টি ঘর নির্মান করেন। আমরা ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শী হওয়ার কারনে ওইসময় পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ ছিলো যে, আমরা প্রতিবাদ করলে জেলে যেতে হতো। বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হতো। এখন পরিস্থিতি অনূকূলে তাই আমাদের সাথে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার চাই। পাশাপাশি আমাদের দখলকৃত জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তেক্ষেপ কামনা করছি। এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিষয়টি আমি যোগদানের অনেক পূর্বের। তাই এবিষয়ে আমার জানা নেই। তবে আদালতের কোন নির্দেশনা বা অভিযোগের কপি পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।