জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত নারীবিদ্বেষী বক্তব্য এবং পরে সেটিকে হ্যাকের ঘটনা বলে দাবি করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন বলেছেন, বিতর্কিত পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর আইডি হ্যাকের দাবি জনমনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি করছে।
রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের উদ্দেশে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে দেশজুড়ে আলোচনা চলছে, সেটি সত্য হলে তা শুধু ব্যক্তিগত মত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে সমাজকে মধ্যযুগীয় মানসিকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা।
মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিতর্কিত পোস্টটি দেওয়া হয় শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে। অথচ রাত ১টার দিকে এসে আইডি হ্যাকের দাবি তোলা হয়। তিনি বলেন, “কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তাৎক্ষণিকভাবে জনগণকে জানানোই নিয়ম। কিন্তু এখানে দীর্ঘ সময় নীরব থাকার পর সমালোচনা ছড়িয়ে পড়লে হঠাৎ করে হ্যাকের কথা বলা হয়েছে। এতে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।”
তিনি আরও বলেন, জামায়াত নেতাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছিলেন। যদি তা-ই হয়, তবে কেন প্রায় ১২ ঘণ্টা পর রাত ৩টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলো। এই বিলম্বের কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা তারা এখনো দেননি। পাশাপাশি হ্যাকের দাবি জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের কথাও বলা হয়েছে, যা নিয়েও মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জামায়াতের নারীদের বিষয়ে অতীত অবস্থানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নারীর নেতৃত্ব নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন জামায়াত আমির। এর আগেও দলের বিভিন্ন নেতা নারীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। অথচ যে দল ইনসাফ কায়েমের কথা বলে, তারা একটি আসনেও কোনো নারীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়নি। এটি নারীদের প্রতি দলটির দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিফলন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকার নিয়ে কোনো আপস নেই। “এই ধরনের ভাষা ও মানসিকতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এটি স্পষ্টভাবে নারী বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ,” বলেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে থাকার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীরা অপমান ও চাপের মুখে পড়েছেন। নির্বাচনী মাঠে বিএনপির নারী প্রার্থী ও কর্মীরাও অনলাইন এবং অফলাইনে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন মাহদী আমিন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি ইয়াসিন আলী উপস্থিত ছিলেন।