নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের লুটপাটের মচ্ছবে অনিশ্চয়তায় জুলাই জাদুঘর

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের লুটপাটের মচ্ছবে অনিশ্চয়তায় জুলাই জাদুঘর

সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প ‘জুলাই জাদুঘর’ ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও চরম অব্যবস্থাপনার মেঘ। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও সাধারণ জনগণের জন্য জাদুঘরটি উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। অভিযোগের তীর সরাসরি প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারের দিকে। তার প্রত্যক্ষ অসহযোগিতা এবং অর্থ আত্মসাতের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কারণে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জাদুঘরের জন্য প্রাথমিকভাবে যে প্রাক্কলিত দর নির্ধারণ করা হয়েছিল, তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি খরচ দেখিয়ে একটি ‘লুটপাটের মচ্ছব’ সাজিয়েছেন প্রকৌশলী সাত্তার। নির্মাণ সামগ্রীর ঊর্ধ্বমূল্যের খোঁড়া অজুহাত দেখিয়ে তিনি মূল প্রকল্পের বাইরের বিভিন্ন তহবিল থেকেও অর্থ সরিয়ে নিচ্ছেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট ডিভিশনের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা (এপিপি) থেকেও এই প্রকল্পের নামে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।

তদন্তে জানা গেছে, সরকারের এই বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক কাজকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ অর্থ নয়-ছয় করার সুনিপুণ উদ্যোগ নিয়েছেন এই প্রকৌশলী। তার ব্যক্তিগত অসহযোগিতার কারণে জুলাই জাদুঘরের ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল (ইএম) কাজে এমন এক সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে যে, কারিগরি সরঞ্জাম স্থাপন ও যান্ত্রিক ত্রুটি নিরসনে কোনো অগ্রগতি নেই। প্রকল্পের সাথে যুক্ত অন্যান্য প্রকৌশলী ও ঠিকাদাররা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নির্বাহী প্রকৌশলীর অসহযোগিতার কারণে বিভিন্ন বিভাগীয় ছাড়পত্র ও কারিগরি সমন্বয়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হচ্ছে, যেন বাড়তি সময়ের অজুহাতে আরও অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো যায়। ফলে নির্ধারিত সময় তো বটেই, অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেও জাদুঘরটি জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেন, “যেখানে জুলাই বিপ্লবের স্মৃতি ধরে রাখা একটি জাতীয় কর্তব্য, সেখানে কিছু অসাধু কর্মকর্তার পকেট ভারী করার মানসিকতা আমাদের লজ্জিত করে। প্রকৌশলী সাত্তারের খামখেয়ালি এবং সমন্বয়হীনতার মাশুল দিচ্ছে পুরো প্রকল্পটি।” এদিকে, এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সাত্তারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং ফোনের লাইন কেটে দেন। অন্যদিকে, প্রকল্পের সামগ্রিক স্থবিরতা নিয়ে প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুটা রক্ষণাত্মক উত্তর দেন। তিনি বলেন, “জুলাই জাদুঘর প্রকল্প নিয়ে ছোটখাটো কিছু বিষয় থাকলেও সামগ্রিকভাবে কোনো বড় সমস্যা নেই। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি এবং শিগগিরই প্রধান উপদেষ্টা এই জাদুঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন বলে আমরা আশা করছি।” তবে প্রধান প্রকৌশলী আশার কথা শোনালেও মাঠ পর্যায়ের চরম সমন্বয়হীনতা ও অর্থের নয়-ছয় নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না সংশ্লিষ্ট মহলের।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে