প্লট দুর্নীতি: হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনা-ববির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

এফএনএস অনলাইন:
| আপডেট: ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:০৮ পিএম | প্রকাশ: ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
প্লট দুর্নীতি: হাসিনা-টিউলিপ-আজমিনা-ববির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড
ছবি, সংগৃহিত

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার দুই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ বছর করে ১০ বছর, তার ভাগ্নি শেখ রেহানার মেয়ে ও বিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ৪ বছর, এক মামলায় আজমিনা সিদ্দিকের ৭ বছর, তার ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও আরোপ করা হয়েছে। অনাদায়ে প্রত্যেককে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মামলার অন্য আসামিদের ৫ বছর করে কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই রায়ে মামলার অন্যান্য আসামিদেরও অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত -৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই দুই মামলায় অভিযোগ আনা হয়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীকে পৃথকভাবে ১০ কাঠা করে দুটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেন।

মামলাগুলোতে শেখ রেহানার আরেক মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। পাশাপাশি তদন্তে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নাম উঠে আসে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতে মামলাগুলোর শুনানি সম্পন্ন হয়।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বোন শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ও মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকে ১০ কাঠা করে দুটি সরকারি প্লট বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই মামলা দুটি দায়ের করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করেন।

২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক এস এম রাশেদুল হাসান ও আফনান জান্নাত কেয়া বাদী হয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করেছিলেন। তদন্ত শেষে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়, যার মধ্যে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ এবং শেখ হাসিনার সাবেক একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর জহিরুল জানান, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে এই রায় একটি কঠোর বার্তা প্রদান করবে। অন্যদিকে, রায়ের পর আদালত পাড়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে