গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাৎসরিক ছুটির টাকার দাবিতে শ্রমিক আন্দোলনের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়েছে মন্ডল গ্রুপের ট্রপিক্যাল নীটেক্স লিমিটেড নামক কারখানা।
সোমবার (২ফেব্রুয়ারি) সকালে কালিয়াকৈর পৌরসভার পল্লীবিদ্যুত এলাকাস্থ ট্রপিক্যাল নীটেক্স লিমিটেড কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ টাঙ্গিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, গতকাল রোববার দুপুরের পর থেকেই বাৎসরিক ছুটির পাওনা টাকার দাবিতে বিক্ষোভ করে সন্ধ্যায় ঢাকা - টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করে।
শ্রমিকরা জানায়, গত এক বছর আগের ছুটির আট হাজার টাকা চলতি বছরের প্রথমে দেয়ার কথা থাকলেও এখনো কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করেনি। এ নিয়ে একাধিকবার শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। তবে কর্তৃপক্ষ অন্যান্য টাকা পরিশোধ করলেও ছুটির টাকা পরিশোধ না করায় শ্রমিকরা আন্দোলন বিক্ষোভ শুরু করে। এ ঘটনার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ সোমবার সকালে কারখানা বন্ধের নোটিশ টাঙ্গিয়ে দেন। পরে শ্রমিকরা কারখানা ফটকে গেলে কারখানাটি বন্ধ দেখতে পান। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কারখানার গেইটে লাগানো নোটিশে উল্লেখ করেন শ্রমিকরা অনৈতিক দাবি দাওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষকে চাপ প্রয়োগ করে। শ্রমিকদের অনৈতিক দাবি মেনে না নিলে শ্রমিকরা কারখানায় ভাঙচুর করে এ সময় তাদের বাধা দিতে গেলে কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়। শ্রমিকরা কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, কারখানার ক্ষতি সাধন, অযৌক্তিক আন্দোলন,কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত, ভাংচুর ও মহাসড়ক অবরোধ সহ শ্রমিক আইনের ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক শ্রম নীতি ভঙ্গ করায় কারখানা কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি প্রদান করে কারখানা গেইটে নোটিশ টাঙানো হয়েছে।
কারখানার শ্রমিক আলম বলেন, আমাদের এক বছরের ছুটি বাবদ টাকা পাওয়ার কথা। মালিক পক্ষ টাকা না দিয়ে নানা রকমের বাহানা করছে। তাই আমরা আন্দোলন করেছি। এর পর আজ সকালে গিয়ে দেখি কারখানা বন্ধ।
সোহরাব মিয়া নামে আরেক শ্রমিক বলেন, পাওনা টাকা চেয়ে আন্দোলন করায় মালিক পক্ষ কারখানা বন্ধ করে দিছে। আমাদের কয়েকশত শ্রমিক পরিবার নিয়ে এখন না খেয়ে থাকবে।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন জানান, কারখানা বন্ধের পর সকালে শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হয়েছে। বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে কথা হয়েছে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।