রংপুর মহানগরীর শাপলা চত্বরের পাশে হাজীপাড়া এলাকার মোছাঃ শাবানা বেগম এর বিরুদ্ধে ফেনন্সিডিল ও হিরোইন ব্যবসায়ী ও একাধিক মাদক মামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এলাকাবাসী। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) সকালে নিজ এলাকায় এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইব্রাহিম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শাপলা বেগম এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও কয়েকটি মাদক মামলার আসামি। তিনি কাগজ বিহীন জমিতে বাড়ি করে বসবাস করেন। সেই জমি আমরা ২৩১৩৫/২৪, ১৩০১৮/২৫ ও ১৪০২৩/২৫ দলিল নম্বর মূলে ক্রয় সূত্রে জমির মালিক হই। পূর্বের জমির মালিকগণ সিটি কর্পোরেশনের সার্ভেয়ার দিয়ে আমাদের কে জমির দখল বুঝিয়া দেয়। সেখানে শাবানা বেগমকে আসার জন্য অনুরোধ করা হলে তিনি আসে নাই। তিনি আরো বলেন, নিষেধ করা সত্বেও পরে শাপলা লোকজন দিয়ে উক্ত জমির উপর একটা টিনের ঘর উঠায়। আমরা জানতে চাইলে সে বলে আমার কাছে জমির কাগজ আছে। কাগজ দেখতে চাইলে টালবাহানা করে এবং আমাদের দেখে নেয়ার হুমকি দিতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে কোতয়ালী থানা মেট্রোতে একটি শালিশি মিটিং হয়। উক্ত শালিশি মিটিং এ তিনি জমির কাগজ দেখাতে না পেরে সেখান থেকে চলে আসে। পরে তিনি নিজের বাড়িঘর ভাংচুর করে আমাদের নামে অপবাদ দিয়ে গত ০১ ফেব্রুয়ারী এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করে, সেখানে আমাদের নামে বেশ কিছু অভিযোগ করেছে। ইব্রাহিম বলেন, আমরা শান্তি প্রিয় লোক শান্তিতে থাকতে চাই তাই আমরা চাই মাদক ব্যবসায়ী শাবানা জমির কাগজ দেখাতে পারলে সে যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় থাক। আর জমির কাগজ পত্র দেখাতে না পারলে আমাদেরকে জমি বুঝিয়া দিক। এ ব্যাপারে আমরা প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২১ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবার রহমান মঞ্জু, এলাকাবাসী মোসলেমা বেগম, সাবিহা বেগম, মোখলেছার রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, ইমরান হোসেনসহ আরো অনেকে। উপস্থিত সাবেক কাউন্সিলর মাহবুবার রহমান মঞ্জু বলেন, জমির ব্যাপারে থানা থেকে আমাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো, আমি সকলকে কাগজসহ বসতে বলেছিলাম কিন্তু শাবানা কাগজ দেখাতে অপারগতা স্বীকার করে আমি আর কি করবো। এ ব্যাপারে সাবানা বলেন, তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন আমার স্বামী মারা যাবার পর থেকে তারা আমার বাড়ি দখল করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে তারই অংশ হিসেবে আমাদের উপর হামলা ও হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে যাতে আমরা ভয়ে বাড়ি বিক্রি করে দিয়ে চলে যাই। আমার এই বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই আমি বাড়ি ছেড়ে দিলে কোথায় যাবো। তাই আমার জান থাকাকালীন এই বাড়ি ছাড়া সম্ভব নয়। তাই আমি প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করছি। সাবানার মেয়ে শায়লা আফরোজ বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর হতে আমাদের উপর অত্যাচার চলছে। কিছুদিন আগে আমাদের উপর তারা হামলা করেছে। হামলার কারণে আমি ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। টহল পুলিশ আমাদের ভান্ডুর বাড়ির ছবি তুলে ও পরে যাওয়ার সময় আমাকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ প্রদান করেন। পরবর্তীতে আমি আমার মাকে বাদি করে কোতয়ালী থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করি। এখন এরা আমাদের নামে অপবাদ দিচ্ছে।