আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভোটের মাঠ উতপ্ত হচ্ছে। ভোলা-২ তথা বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদদীয় আসটি। এই আসনে ২টি পৌরসভা, ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান রয়েছে । মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৯৫,৫৪৬, পুরুষ-২,০৬,৪৩৩, নারী-১,৮৯,১১২ ও তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটর রয়েছে। মূলত নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়েত ইসলামী একে অপরের প্রধান প্রতিপক্ষ। পতিত আ’লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দেলনকারী জোটবদ্ধ দুটি দল আজ একে অপরের মুখোমুখি। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে না ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে দলগুলো। এই সংসদীয় আসনে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে নির্বাচন লড়ছেন সাবেক সংসদ হাফিজ ইব্রাহিম ও জামায়েত ইসলামী বাংলাদেশের মোহাম্মমদ ফজলুল করিম। যদি ১১ দলীয় জোট থেকে আসনটিতে মনোনয়ন দেয়া হয় তাদের আরেক শরীক এলডিপি’র মোখফার উদ্দিন চৌধুরি কে। কিন্তু জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী তার মননোয়ন প্রত্যাহর না করায় মোখফার উদ্দিন চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করে নিজেই সরে যান। এই সংসদীয় আসনটিতে ৯৫ ভাগ মানুষ মুসলিম। ধমের প্রতি দূর্বলতা কম বেশী সবারই রয়েছে। আর একে পুঁজি করেই। ভোলা-২ আসনে ভোটারদের সিমপ্যাথি পেতে অভিনব ফাঁদ পেতেছে জামায়াত ইসলাম(দাড়িপাল্লা) প্রতীকের নেতাকর্মীগণ। পরিকল্পিত উস্কানির মাধ্যমে মার খেয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি কুড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের তারা বোঝাচ্ছে যে, ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) যেভাবে তায়েফ শহরে (আইয়্যামে জাহেলিয়াত) যুগে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাও ঠিক তেমন পরিস্থিতির সম্মুখীন। ফজরের নামাজের পরপরই কৌশলে সাধারণ মুসল্লী সেজে ও কর্মীদের নিয়ে এলাকা ভিত্তিক নির্বাচনী এলাকায় নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করা পরিস্থিতি সংঘর্ষের পর্যায়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য একটাই মানুষের মধ্যে এই ধারণা প্রচার করা যে, বিএনপি কর্তৃক জামায়াত নির্যাতিত হচ্ছে। ভোলার ২ আসন বোরহানগঞ্জে গত ২৫ জানুয়ারি এবং টগবী মনিরামে ঘটা দুটি ধারাবাহিক ঘটনা জামায়াতের এই নতুন প্রচারণামূলক কৌশলেরই ইঙ্গিত বলে জানা যায়। মদিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক জামায়াত বিষয়ে বলেন, "জামায়াত ক্ষমতার লোভে নিজেদের সংবিধানে অগণিত বিকৃতি এনেছে।" তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইসলামি আদর্শকে বিসর্জন দিয়ে কীভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব?জামায়াত নিজেদের 'শতভাগ আল্লাহর দল' দাবি করে প্রতি রমজানে যাকাত এবং বছরজুড়ে নিয়মিত চাঁদা সংগ্রহ করে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'বায়তুল মাল'। অথচ পবিত্র কোরআনের সূরা তওবার ৬০ নম্বর আয়াতে এবং সহিহ বুখারির ১৪০০ নম্বর হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, যাকাত সংগ্রহ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নবী করীম (সা.) যাকাত আদায়ের জন্য সরকারি গভর্নর নিযুক্ত করতেন এবং যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবস্থা নিতেন। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, এটি একটি রাষ্ট্রীয় কাজ; ব্যক্তি বা সংগঠন পর্যায়ে গোপনে যাকাত সংগ্রহের কোনো বিধান নেই। অভিযোগ রয়েছে, জামায়াত পবিত্র কোরআনের বিশেষ কিছু আয়াতের অর্থ নিজেদের মতো করে সাজিয়ে প্রচার করছে। তাদের 'সংগঠন পদ্ধতি' বইয়ের ১৫ ও ১৬ নম্বর পৃষ্ঠায় মসজিদভিত্তিক কার্যক্রম, ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ এবং যাকাত সংগ্রহের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা মূলত ইসলামের নামে অর্থ সংগ্রহেরই কৌশল। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর বিভিন্ন সংস্কারের চাপ দিলেও সুন্নাহ সম্মত আমলগুলো জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বা নিজেরা পালন করতে তাদের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এই দ্বিচারিতার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। গত ৩১ জানুয়ারি টগবী ইউনিয়নে মহিলারা জামায়াতের এই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, শিক্ষিত সমাজ যত বাড়বে, ধর্মের নামে এমন রাজনৈতিক ব্যবসার মুখোশ ততই উন্মোচিত হবে।