কলাপাড়ায় হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলমান, কমেনি নারীদের দুর্ভোগ

এফএনএস (মিলন কর্মকার রাজু; কলাপাড়া, পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম | প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:২৬ পিএম
কলাপাড়ায় হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলমান, কমেনি নারীদের দুর্ভোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা। এ উপজেলায় পায়রা সমুদ্র বন্দর, একাধিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। হাজার হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প চলমান এ উপজেলায়। কিন্তু এসব মেগা প্রকল্পে তিন- চার ভাগের বেশি নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়নি। এ কারনে উপকূলীয় কমহীন বেশিরভাগ শিক্ষিত নারী বেকারত্ব নিয়ে সেই অন্ধকারেই রয়ে গেছে।  তাদের দুর্ভোগ দিনদিনই বাড়ছে। তাই এবার জাতীয় নির্বাচনে যে দল ও প্রার্থী নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিবে তাদেরই ভোট দিয়ে নির্বাচন করার আশ্বাস দেন।   পটুয়াখালী-৪ নির্বাচনী আসন। কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ১২৩ জন এবং  নারী ভোটার ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এখন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।  কিন্তু প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর নারী ভোটারদের নিয়ে বিগত ১২ টি সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও প্রার্থীদের নেই কোন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। নারীদের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে সহায়তার আশ্বাস থাকলেও নারীদের কর্মসংস্থানে নেই কোন উদ্যোগ। এমনকি ইশতেহারেও নেই পরিকল্পনা। পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে পুরুষ কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকরা বছরের পর বছর কাজ করলেও নারীদের জন্য তেমন কাজের সুযোগ তৈরি হয়নি। এসব মেগা প্রকল্পে কয়েক হাজার পুরুষ কাজ করলেও নারীদের শতকরা পাঁচ ভাগও কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়নি। শুধু মেগা প্রকল্পগুলো নয়, পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হলেও সেখানেও নেই নারীদের কর্মসংস্থান। এমনকি নারী উদ্যোক্তাও তৈরি হয়নি।  পটুয়াখালী-৪ আসনের নারী ভোটাররা বলেন, তারা এবার আর ভুল করবেন না। তাদের কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তায় যারা কাজ করবেন তাদেরকেই ভোট দিবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নম্রতা, আফরোজা ও নিহারিকা বলেন, কলাপাড়া কোন শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। পায়রা সমুদ্র বন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হয়েছে।  তাতে কলাপাড়ার শিক্ষিত নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। বেসরকারি শিল্প ইউনিটেও একই অবস্থা। এ শিক্ষিত নারীদের দাবি, আগামী নির্বাচনে যে প্রার্থাীর ইশতেহার তাদের পছন্দ হবে, নারীদের কর্মসংস্থানে সঠিক নির্দেশনা থাকবে, পাশাপাশি তৃনমুল নারীদের উন্নয়নে ভাববে তাদের ভোট সেই প্রার্থী পাবে। সাগর তীরবর্তী কলাপাড়া উপজেলায় প্রতিবছর একাধিক ঝড়, জলোচ্ছ্বাসে নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ।  এর বেশি প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ কর্মজীবী নারীদের জীবনযাত্রায়। তাই এবার তারাও বলছেন, যারা দুর্যোগ ও দূর্ভোগে সবসময় পাশে থাকবে এবার গ্রামীণ নারীদের ভোট তাদেরকেই দিবেন। ৪৯২ দশমিক ১০২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে কলাপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বাইরে কোন শিল্প কলকারখানা গড়ে ওঠেনি। তাই বেসরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প কিছু নারী কাজের সুযোগ পেলেও অধিকাংশই এলাকার বাইরের। তাই কলাপাড়ার বিশাল শিক্ষিত নারী জনগোষ্ঠী কাজের সুযোগ পাচ্ছে না। এবিষয়ে নারী নেত্রী জুলিয়েট বাড়ৈ বলেন, কলাপাড়ার মেগা প্রকল্পগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও সমান সুযোগ দেয়া উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা করা উচিত। এতে উপকূলীয় নারীররা তাদের শিক্ষা ও কাজের মূল্য পাবে। তিনি বলেন, কলাপাড়ায় বিসিকের মতো শিল্প কলকারখানা থাকলে অনেক শিক্ষিত গৃহবধু ঘরে বসেও কাজ করতে পারতো। আগামী নির্বাচন নারীদের উন্নয়নে যেসব দল সঠিক পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্যোগ নিবে নারীদের ভোট তারাই পাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে