বেইমানদের ১২ তারিখ 'লাল কার্ড' দিয়ে বিদায় করে দিবে: জামায়াত আমীর

এফএনএস (জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না; লালমনিরহাট) : | প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
বেইমানদের ১২ তারিখ 'লাল কার্ড' দিয়ে বিদায় করে দিবে:  জামায়াত আমীর

‎আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসন ১৬, ও লালমনিরহাট-৩ (হাতীবান্ধা পাটগ্রাম) আসনে নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ বেইমানদের 'লাল কার্ড' দেখিয়ে বিদায় করে দেবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারাজ হেলিপ্যাড মাঠে আয়োজিত বিশাল এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি আরো বলেন, তিস্তা হবে এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। যেকোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দেশের স্বার্থে আপসহীন থাকার ঘোষণা দেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “স্বাধীনতার পর থেকে যারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করেছে, তাদের আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ 'লাল কার্ড' দেখাবে। তিস্তা ইস্যুতে আমরা কারো রক্তচক্ষু পাত্তা দেব না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা আজ অভিশাপে পরিণত হয়েছে, কিন্তু আমরা একে দেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রূপান্তর করতে চাই। নদীভাঙন রোধ করে মানুষের ভিটেমাটি রক্ষা করাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি আরও যোগ করেন, গত ৫৪ বছর ধরে চলা ‘মতলববাজ রাজনীতির’ অবসান ঘটানোর সময় এসেছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনই নির্ধারণ করবে ১৩ তারিখের নতুন বাংলাদেশের ভাগ্য। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে আমরা তরুণদের অপমান করব না, বরং তাদের হাতেই দেশ গড়ার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে।” এছাড়া তিনি বুড়িমারি স্থলবন্দরের আধুনিকায়ন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৈষম্য দূর করা এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। দেশে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগরিষ্ঠের বিভাজন রেখা মুছে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “এ দেশে মাইনরিটি বা মেজরিটি বলে কোনো শব্দ থাকবে না। আমরা সবাই বাংলাদেশি। ভিন্ন ধর্মের মানুষকে আমরা বুকের চাদরে আগলে রাখব। এ ছাড়া নারীদের আমরা শ্রদ্ধার সর্বোচ্চ আসনে বসাব। কোনো মায়ের গায়ে যেন হাত না ওঠে, কোনো বোন যেন অনিরাপদ না থাকে-সেটি নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে আমরা জীবন দেব, তবুও মা-বোনদের সম্মান ক্ষুণ্ণ হতে দেব না। 

সীমান্ত উন্নয়ন ও প্রবাসীদের নিরাপত্তাবঞ্চিত অঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বুড়িমারি স্থলবন্দরকে আধুনিকায়নের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “উন্নয়ন শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক হবে না, বরং বঞ্চিত সীমান্ত অঞ্চল থেকেই উন্নয়নের সূচনা হবে। আমরা বসন্তের কোকিল নই, বিপদের সময় দেশ ছেড়ে পালাব না। ফ্যাসিবাদীরা পালালেও আমরা এ দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গেই থাকব।

‎জনতার জোয়ার ও নির্বাচনী আমেজ জনসভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সাতজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক তুলে দেন। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর ও সদর-৩ আসনের প্রার্থী আবু তাহেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন ১১-দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এদিকে জামায়াত আমীরের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই তিস্তা ব্যারাজ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বাস, ট্রেন, অটোভ্যান এমনকি পায়ে হেঁটে হাজার হাজার মানুষ মিছিলে মিছিলে সভাস্থলে সমবেত হন। পুরো এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। জনসভা শেষে তিনি লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার সাতজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। লালমনিরহাট জেলা জামায়াতের আমীর আবু তাহেরের সভাপতিত্বে এই বিশাল জনসভায় সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে