নির্বাচন কমিশন (ইসি) কর্তৃক আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাংবাদিকদের পরিচয়পত্রের আবেদন ফরমে চিত্র সাংবাদিকদের (চযড়ঃড়লড়ঁৎহধষরংঃ/ঈধসবৎধঢ়বৎংড়হ) ‘ঝঁঢ়ঢ়ড়ৎঃরাব ঝঃধভভ’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা গভীর উদ্বেগজনক, অসম্মানজনক এবং পেশাগত মর্যাদার পরিপন্থী। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক লায়ন মো. আবুল হোসেন বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উল্লেখ্য করেন, চিত্র সাংবাদিকরা কোনোভাবেই সহায়ক বা পার্শ্বচরিত্র নন। তাঁরা সরাসরি সংবাদকর্মী সংবাদের অন্যতম প্রধান বাহক। তাঁদের ধারণকৃত ছবি ও ভিডিও ফুটেজ বহুক্ষেত্রে সংবাদ ঘটনার সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে নির্বাচনকালীন সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে চিত্র সাংবাদিকরা স্বতন্ত্র পেশাজীবী হিসেবে স্বীকৃত। তাঁদের অনেকেই অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী, প্রশিক্ষিত ও অভিজ্ঞ পেশাদার। সে বাস্তবতাকে অগ্রাহ্য করে আবেদন ফরমে তাঁদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে চিহ্নিত করা নির্বাচন কমিশনের অজ্ঞতা অথবা চরম অবহেলার বহিঃপ্রকাশ বলেই প্রতীয়মান হয়। নেতৃবৃন্দরা আরও উল্লেখ করেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, নির্বাচন কমিশনের সাংবাদিক পরিচয়পত্র ও যানবাহনের স্টিকার ইস্যু সংক্রান্ত সাম্প্রতিক স্মারক (নং-১৫১, তারিখ ২৯ জানুয়ারি ২০২৬) এবং অনলাইন পোর্টাল (ঢ়ৎ.বপং.মড়া.নফ) চালু হলেও এই গুরুত্বরত্রুটি এখনো সংশোধন করা হয়নি। এতে গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে বৈধ ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম স্পষ্টভাবে দাবি জানাচ্ছে, অবিলম্বে আবেদন ফরম সংশোধন করে চিত্র সাংবাদিকদের জন্য স্বতন্ত্র ও যথাযথ ক্যাটাগরি (যেমন: চিত্র সাংবাদিক/ভিজ্যুয়াল জার্নালিস্ট) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনোভাবেই চিত্র সাংবাদিকদের ‘সাপোর্ট স্টাফ’ হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা যাবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শ নিশ্চিত করতে হবে। বিএমএসএফ'র নেতৃবৃন্দরা মনে করছেন, এটি কেবল একটি ফরমের ত্রুটি নয়, এটি গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ গণমাধ্যমের সম্মান, স্বাধীনতা ও পেশাগত স্বীকৃতির প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশনের মতো একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আমরা অধিকতর সংবেদনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি। তারা আরও বলেন, আমরা আশা করছি, নির্বাচন কমিশন দ্রুত এই অনভিপ্রেত সিদ্ধান্ত সংশোধন করে গণমাধ্যমকর্মীদের ন্যায্য মর্যাদা নিশ্চিত করবে।