বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের অভিযোগে গ্রেফতার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ার আলমকে জামিন দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তার শুনানি শেষে পাঁচ হাজার টাকার মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে। ছরওয়ার আলমসহ ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জামায়াতের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে। এরপর সেখানে এমন একটি পোস্ট প্রকাশিত হয়, যা নারীর প্রতি বিদ্বেষ, অশ্লীলতা, জাতিগত সহিংসতা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার উসকানি ছড়ানোর অভিযোগে ঘিরে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্টটি পুনরুদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় বুধবার রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মামলায় বাদী হন জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. সিরাজুল ইসলাম।
মামলার শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আজকের আসামি যে কাজ করেছেন, সেটা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য করা হয়েছে। মহিলা ভোটারদের উত্তেজিত করার উদ্দেশ্যেও জামায়াতের আমিরের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে এটি করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এ দেশে শাক-পাতা চুরি করলেও ৭-৮ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়, তবে এই ঘটনায় কেন রিমান্ড চাওয়া হয়নি তা জানা যায়নি।”
অন্যদিকে, আসামি ছরওয়ার আলম আদালতে নিজের পক্ষ থেকে বলেন, “আমি এই ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমি অবসরে যাবার কিছু দিন আগে এই ঘটনা ঘটেছে। সব কিছু পুলিশকে দিয়েছি তদন্ত করার জন্য। আমি নিজেকে একশভাগ নির্দোষ দাবি করছি।”
ছরওয়ারের স্ত্রী শামীম আরা আদালতের বাইরে সাংবাদিকদের বলেন, “আমার স্বামী পুরোপুরি নির্দোষ। ৩২ বছর ধরে সরকারি চাকরিতে ছিলেন। তিনি কখনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হননি। এখন এই বয়সে এসব করে নিজের পেনশন নষ্ট করার কোনো মানে নেই।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, হাতিরঝিল থানার এসআই খন্দকার সালেহ আবু নাঈম, আদালতে উল্লেখ করেন, “আসামি যে সকল ডিভাইস ব্যবহার করেছেন তা জব্দ করা হয়েছে এবং ফরেনসিক পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন। মামলার তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে রাখা প্রয়োজন।”
এদিকে, ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামারকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, সচিবালয় ও কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে তার জড়িত থাকার যথেষ্ট প্রমাণ আমাদের হাতে রয়েছে। সমস্ত জব্দকৃত ডিভাইস ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।”