‘হ্যা’ ভোট হচ্ছে আযাদী আর ‘না’ ভোট হচ্ছে গোলামী: জামায়াত আমির

এফএনএস (মোঃ রেজাউল ইসলাম শামীম; পিরোজপুর) :
| আপডেট: ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৩৭ পিএম | প্রকাশ: ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:৩১ পিএম
‘হ্যা’ ভোট হচ্ছে আযাদী আর ‘না’ ভোট হচ্ছে গোলামী: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের নির্বাচন গতানুগতিক কোনো নির্বাচন নয়। মা-বোনের সম্মান রক্ষার নির্বাচন, শিশুর বেড়ে ওঠার নির্বাচন, পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার নির্বাচন, ইনসাফের নির্বাচন, বেকার ভাতা দেওয়ার মুখ বন্ধ করে দেওয়ার নির্বাচন। আজ শুক্রবার বিকাল  সাড়ে ৩ টায় পিরোজপুর সরকারী বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত এর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা ১০ টাকায় চাল দেওয়ার কথা বলেছিলো, এখন এক দল বলে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা। ওই ফ্যামিলি কার্ড ১০ টাকার চাল দেওয়ার মতো ধাপ্পাবাজি। তিনি বলেন, দেশে যেসব মহিলারা দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাচ্ছে, একটি দল সেই মহিলাদে কাপড় খুলে ফেলতে চায়। তারপরও ওই দলের নেতারা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না। বলেন, জুলাই সন্তানরা এ দেশে আর কোনো বৈষম্য চায় না। হাদি, আবু সাঈদ, মুগ্ধরা উচ্চারন করেছিলো এদেশে কোনো বৈষম্য থাকবেনা, তাই তাদের হত্যা করা হয়েছে। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ওই হত্যার বদলা নিতে আমরা আপনাদের কাছে দুটি ভোট চাই। এর একটি হচ্ছে ‘হ্যা’ এর পক্ষে, অন্যটি ইনসাফের রাষ্ট্র গঠন করতে। ‘হ্যা’ ভোট হচ্ছে আযাদী আর ‘না’ ভোট হচ্ছে গোলামী। আমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো গোলাম হতে চাই না। এ দেশে ইনসাফ কায়েম করে ২৮ লাখ কোটি টাাকা পাচারকারীদের মুখের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে ওই টাকা ফিরিয়ে এনে সেই টাকা দিয়ে দেশের উন্নয়ন করবো। তিনি বলেন, পুরনো ইতিহাসের ভোট আর এ দেশে চলবেনা। যারা ভোট চুরির চিন্তা করবে, সে যত বড় শক্তি হোক, আমরা তাকে দেখে নেবো। আপনারা এখন থেকে পাহাড়া দেন। যাতে কেউ ভোট কিনতে বা ভোটের দিন ভোট চুরি করতে না পারে।

তিনি বেকার ভাতার বিরুদ্ধাচরন করে বলেন, আমরা বেকার ভাতা দিতে পারবো না। আমরা বেকার যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিব। যাতে তারা সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে পারে। আমরা যাত-পাত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, নারী, পুরুষ ব্যবধান করবো না। প্রত্যেককে যোগ্যতানুযায়ী কাজ দিব। যার সার্ভিস যত ঝঁকিপূর্ণ তার মর্যাদা ততবেশী হবে। এ জাতিকে বিভক্ত করার সুযোগ আমার কাউকে দিবনা।

তিনি মাওলানা দেলাওয়ার দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কথা উল্লেখ করে বলেন, নিরপরাধ শহীদ মাওলানা সাইদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার অপরাধ ছিলো তিনি কোরানের বাণী প্রচার করতেন, তাই তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিরপরাধ সাঈদী হত্যার বদলা নিতে আপনাদের ভোট অতি গুরুত্বপূর্ন। 

নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের কোন প্রশ্রয় দেওয়া হবেনা। ইনসাফের সরকারের সুযোগ দিলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা। এই দেশ হবে ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশ। দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে সকলের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে চাই। দেশেন জনগণ জামায়াতকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিলে শাসক নয়, সেবক হব।  

ইনশাআল্লাহ ১৩ ফেব্রুয়ারীর নতুন সূর্য হবে ইনসাফের বাংলাদেশের সূর্য। বলেন, দেশ আমাদের হবে না, হবে ১৮ কোটি বাংলাদেশীর। পিরোজপুরের ৩টি আসনের প্রার্থীদেরকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চেয়ে বলেন, এ তিনটি আসন উপহার দিন, প্রতিদান দিব ইনশাআল্লাহ। 

 শুক্রবার সকাল থেকে জেলার সব উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন, বড় আকারের তৈরি দাঁড়িপাল্লা প্রতিক নিয়ে মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে জড়ো হন। দুপুর ১২ টার মধ্যে বিশাল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ‘ন্যায়ের প্রতিক দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিন’ এ গগন বিদারী স্লোগানে জনসভা মাঠ প্রকম্পিত করে তোলেন।

জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টি চেয়ারম্যান ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, পিরোজপুর- ১ আসনের  প্রার্থী মাসুদ সাঈদী, পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী শামীম সাঈদী ও পিরোজপুর-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী ড. শামীম হামিদী সহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে