বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হবিগঞ্জে নিউ ফিল্ড মাঠে শনিবার সকালে জামায়াতের নির্বাচনী জনসভায় বললেন, “যারা রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে তারাই দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মামলাবাজি ও লুণ্ঠন করে।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি মুক্ত করা হবে। কেউ চাঁদা নিতে আসলে হাত ভেঙে দেওয়া হবে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতিতে দেশ ছেয়ে গেছে; যার দায় পূর্বে যারা দেশ শাসন করেছেন তাদের। নির্বাচন আসলে নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে সামনে আসেন কিন্তু নির্বাচন হয়ে গেলে প্রতিশ্রুতি ভুলে যান।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষমতায় গেলে দলের এমপি বিনা ট্যাক্সের গাড়ি নেবে না। প্রয়োজনে রিক্সায় চড়বো। এছাড়াও স্বল্পমূল্যে এমপিদের যে ফ্ল্যাট দেওয়া হয় সেটাও কেউ গ্রহণ করবে না। যার অর্থ দিয়ে ক্রয় করার ক্ষমতা আছে সেই পরিপূর্ণ অর্থ দিয়ে গাড়ি-ফ্ল্যাট ক্রয় করবেন। দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও তাদের পরিবারের আয়-ব্যায়ের হিসাব প্রকাশ নিশ্চিত করা হবে। কেউ জনগণের সম্পদে হাত দিলে ছাড় দেওয়া হবে না।”
‘এখনো মায়েরা ঘরের মধ্যে নিরাপদ নন, ঘর থেকে বের হলে চলাচলে নিরাপদ নন, কর্মস্থলে নিরাপদ নন। এখনো দেশে চাঁদাবাজদের ভয়ে মানুষ অস্থির। মামলাবাজদের ভয়ে সাধারণ মানুষ অস্থির। দুর্নীতি আমাদের সমাজকে আগাগোড়া একেবারে ছেয়ে ফেলেছে। এই বাংলাদেশ সবাই কি চেয়েছে?’-প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি এখানে রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। অথবা তাদের সন্তানরা আছেন। আমিও এক শহিদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। আমার যে ভাই জীবন দিয়েছেন, আমি বিশ্বাস করি এমন বাংলাদেশের চিত্র দেখলে তিনি হয়তো মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতেন না। এ দেশের মানুষের কপাল বদলায় না কেন? না বদলানোর মূল কারণ হলে অসৎ নেতৃত্ব। এরা যখন জনগণের কাছে ভোটের জন্য আসে, তখন একেকজন পীর, দরবেশ, আউলিয়া হিসেবে আসে। তারা আসে বসন্তের কোকিল হয়ে, বসন্তের সুবাতাস উপভোগ করার জন্য। নির্বাচনের সময় এসে উন্নয়নের একদম গঙ্গা, পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারা বয়ে দেয়। কিন্তু যখন নির্বাচন চলে যায়, তখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।”
তিনি বলেন, “ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার ইসলাম সমর্থন করে না। তাই ৫ আগস্টের পর ভিন্ন ধর্মের উপাসনালয় পাহারা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে আমরা আর কাউকে বঞ্চিত হতে দেবো না। সব ধর্ম নিরাপদে তাদের উৎসব পালন করার বিষয়ে নিশ্চিত করবো।
ক্ষমতায় আসলে জামায়াত নিরাপদে সব ধর্মের উৎসব পালন করার বিষয় নিশ্চিত করবে বলেও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।