উত্তরাঞ্চলের নীলফামারীর নির্বাচনি জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার দুপুর ২টায় নীলফামারী সরকারি হাইস্কুল বড় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, “দেশের মানুষ ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের হারানো অধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচন নয়, দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন। বিএনপি জনগণের ভোটে সরকার গঠন করতে পারলে দেশ পুনর্গঠনের সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে।”
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তবে এবার সময় এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন আর, দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ দেশের মালিক জনগণ। তাই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ধানের শীষে ভোট চাই। এ সময় তিনি স্লোগান তুলে বলেন- করব কাজ গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়তে চাই, এ জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। যার মাধ্যমে নারীরা স্বাবলম্বী হবে। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেওয়া হবে। এতে কৃষক সহজে ঋণ-সার-ফসলের বীজ পাবেন। ১২ তারিখ ধানের শীষকে বিজয়ী করলে ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে বলেও প্রতিশ্রতি দেন তিনি।
তিনি বলেন, নীলফামারী উত্তরা ইপিজেড সম্প্রসারণ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা আধুনিকায়ক, এই অঞ্চলের শিল্প কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। গড়ে তোলা হবে কৃষি শিল্প। তৈরি করা হবে কৃষিভিত্তিক হিমাগার, আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে চাই। যেন দেশ-বিদেশ থেকে সহজেই মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসার জন্য আসতে পারে।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, উত্তরাঞ্চল এলাকাসহ সারা বাংলাদেশে একটি বিরাট সমস্যা হচ্ছে পানি সমস্যা। বিশেষ করে যেহেতু উত্তরাঞ্চল এলাকাটি কৃষি প্রধান। এই এলাকায় পানি সমস্যা সমাধানের জন্য কাজে হাত দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। বিএনপি সরকার গঠন করলে এই এলাকার মানুষের স্বপ্নপূরণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজে যথাসম্ভব দ্রুত আমরা হাত দেব।
তিনি বলেন, দেশে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে, প্রতিটি মানুষকে বিচার করা হবে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে, ধর্মের ভিত্তিতে নয়। এ সময় নিরাপদ দেশ গড়ার শপথ নিয়ে তিনি বলেন, সবাই একসঙ্গে দেশকে গড়ে তুলব।
বিএনপি প্রধান বলেন, জনগণের স্বাধীনতা, জনগণের ভোটের অধিকার, জনগণের কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। বহুরূপী একটি দল থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যেন কোনও ষড়যন্ত্র করে কেউ আবার এই ভোটের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে। দেশ আমাদের অনেক দিয়েছে। ১৯৭১ সালে লাখো শহীদ জীবন দিয়েছে দেশকে স্বাধীন করার জন্য। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বহু মানুষ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করার জন্য। এখন আমাদের সেই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে হবে। সে ঐক্য ধরে রাখতে হবে।
নীলফামারীর জনসভা শেষে তারেক রহমান দিনাজপুরের জনসভায় অংশ নিতে হেলিকপ্টারে সেখানে চলে যান।
এর আগে ঠাকুরগাঁও এর জনসভা শেষে দুপুর দুইটায় হেলিকপ্টারে করে তারেক রহমান জনসভাস্থলের নীলফামারীর বড়মাঠের অপর প্রান্তে এসে মাঠে নামেন। তারেক রহমানের আগমনে নীলফামারীর চারটি আসন ডোমার, ডিমলা, জলঢাকা, সদর ও সৈয়দপুর এবং কিশোরীগঞ্জ এলাকা ছাড়াও নীলফামারী সদর সংলগ্ন দিনাজপুরের খানসামা, চিরিবন্দর, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ এলাকার মানুষজনও জনসভায় তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে ছুটে আসেন।