কলম্বোতে ৭ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের উত্তেজনাপূর্ণ শুরু হয়েছে। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ৩ উইকেটে জয় এসেছে পাকিস্তানের, যেখানে শেষ মুহূর্তের নৈপুণ্যই ম্যাচের রঙ নির্ধারণ করেছে।
পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি ছিল চ্যালেঞ্জিং। মাত্র ৯ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৫০ রান, হাতে ছিল ৮ উইকেট। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন হয়েছিল ২৯ রান, হাতে মাত্র ৩ উইকেট—ক্রিজে শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফাহিম আশরাফ। নেদারল্যান্ডস তখন মনে করছিল জয় তাদের দখলে। কিন্তু পাকিস্তান দেখাল শেষ মুহূর্তের ধৈর্য ও ত্রাণের কল্যাণে জিতাই সম্ভব।
ফাহিম আশরাফের অসাধারণ ব্যাটিংই পাকিস্তানের জয়ের মূল হাতিয়ার ছিল। ১৯তম ওভারে তার এক ওভারে ৩ ছক্কা ও একটি চারের ব্যাটিং নেদারল্যান্ডসের মনোবল ভেঙে দেয়। বিশেষত লোগান ফনের বলগুলিতে ফাহিমের ঝড়ো আঘাত এবং প্রতিপক্ষের ফিল্ডিং ভুল পাকিস্তানকে জয় এনে দেয়। শেষ ওভার তিন বলে ৫ রান নিয়ে দল লক্ষ্য অর্জন করে।
তবে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে বাবর আজমের ইনিংস এখনও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। চার নম্বরে আসার পর ১৮ বলে ১৫ রান করে তিনি দলের ছন্দে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটান। তার সঙ্গে ফারহান ১৫০ স্ট্রাইক রেটে ৪৭ রান করেছেন, আর ফাহিম শেষ দিকে ১১ বলে অপরাজিত ২৯ রান যোগ করেন।
পাকিস্তানের ফিল্ডিংও ছিল নজরকাড়া। ৯টি ক্যাচের মধ্যে কয়েকটি ছিল দৃষ্টিনন্দন, বিশেষ করে ওপেনার মাইকেল লেভিটের আউট। বাবর ও শাহিন শাহ আফ্রিদির সমন্বয়ে নেওয়া ক্যাচটি ছিল চোখে পড়ার মতো। উইকেটকিপার উসমান খানও তৃতীয় ওভারে ম্যাক্স ও’ডাউডের দৃষ্টিনন্দন ক্যাচ নেন।
নেদারল্যান্ডসের শুরু ছিল শক্তিশালী। প্রথম ১২.১ ওভারে ১০০ রানে পৌঁছে, কিন্তু শেষ পাঁচ ওভার ধরে তারা মাত্র ২৬ রান করতে পারে এবং ৬ উইকেট হারায়। পাকিস্তানের কমব্যাক ক্রিকেটের ক্ষমতা এদিন আবার প্রমাণিত হলো।
গ্রুপ ‘এ’-তে পাকিস্তানের পরের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১০ ফেব্রুয়ারি, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।