আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আর কয়েকদিন বাঁকি রয়েছে। রাজশাহী-৫(পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনি এলাকায় প্রচার-প্রচারণায় মেতে উঠেছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে এ আসনে বিএনপির একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এই আসনে বিভিন্ন দলের ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন,পুঠিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ২০০৮ এবং ২০১৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল। তার পরিবার বিএনপির জন্ম লগ্ন হতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে রয়েছেন। বিএনপির দল হতে দুইজন প্রার্থীকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক বহিস্কার করা হয়েছে। তারপরও তারা স্বতন্ত্র প্রাথী হিসাবে নির্বাচনীয় মাঠে তারা রয়েছেন। রাজশাহী-৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। দুইজন বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় এ আসনে এবার নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়তে দেখা যাচ্ছে। তবে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন যুক্তরাজ্য জিয়া পরিষদের সহসভাপতি ব্যারিস্টার রেজাউল করিম এবং পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ইসফা খায়রুল হক শিমুল। অন্য দলের প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পুঠিয়া উপজেলা আমির মনজুর রহমান,বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) প্রার্থী আলতাফ হোসেন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রুহুল আমিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী রায়হান কাওসার। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনীয় এলাকায় সাধারণ মানুষের জন্য কোনো প্রকার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেননি, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতারা। ফলে নির্বাচনীয় এলাকায় দ্রুতগতিতে বেকারত্ব রেড়েই চলেছে। বর্তমানে দুই উপজেলায় যত্রতত্র ভাবে ইয়াবা গাঁজা চোলাই মদসহ নানা প্রকার মাদক কেনাবেচা হচ্ছে। ইতোপূর্বে কেউ শক্তহাতে মাদকদ্রব্য কেনাবেচা দমন করেননি। দুর্গাপুর বাজারের মকছেদ আলি বলেন, যে মাদক নির্মূল করবেন তাকে ভোট দেবেন। এর পাশাপাশি ভোটাদের ভাষ্য একজন সৎ, যোগ্য ও সর্বজন গ্রাহনযোগ্য প্রাথীকে ভোট দেবেন। দুর্গাপুর আমগাছি বাজারের দোকানদার হাবিব হোসেন বলেন, যে প্রার্থী এলাকায় শান্তি,নিরাপত্তা উন্নয়ন ও সুশাসন বজায় রাখতে পাড়বেন এবং শক্তহাতে এলাকায় দৌরাত্ন্য নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলসহ বহুমূখী সমস্যাগুলো দূর করতে পারবেন,তাকেই সাধারণ ভোটাররা ভোট দেবেন। যেই প্রার্থী তরুণদের কর্মসংস্থা ও আত্মনির্ভর এবং প্রবীণদের সম্মানিত করবেন তাকে ভোট দেবেন বলে ভাবছেন। পুঠিয়া উপজেলা একটি পর্যটন সম্ভাবনাময়ী এলাকা। শুধু পৌর এলাকায় ১৪টি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন রয়েছে। যা বাংলাদেশের আর কোথাও নেই। যা দেখার জন্য প্রতিদিন দেশি-বিদেশি শতশত পর্যটকরা আসছেন। কিন্তু এখানে আধুনিকমানের পর্যটন শিল্পনগরী গড়ে তুললে পাড়লে এলাকার অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পুঠিয়া-দুর্গাপুর দুই উপজেলায় কৃষি নির্ভর জোন গড়ে তুললে এলাকা মানুষ আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে এবং মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। নির্বাচনীয় এলাকা পেঁয়াজ রসুন ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়ে থাকে। আম এবং পেঁয়াজ রসুনসহ বিভিন্ন রকম সামগ্রী সংরক্ষণ করে রাখার জন্য। এখানে সরকারিভাবে ব্যাপক পরিসরে সংরক্ষণ করে রাখার কোনো ব্যবস্থা নেই। এতেকরে এ অঞ্চলের প্রান্তিক কৃষকরা ন্যায্যমূল্য হতে বঞ্চিত হয়ে আসছে। তরুণ বয়সের ছেলেরা এখন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষে যে প্রাথী কাজ করবে তাকেই জনপ্রতিনিধি হিসাবে বেছে নেবে। সিয়াম হোসেন নামের শিক্ষক বলেন,যত দিন যাচ্ছে আর বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে। শুধুমাত্র কর্মসংস্থান না থাকায়, আজ যুবকসমাজ অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। এবারের নির্বাচনে যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার প্রতিশ্রুতি দেবেন তাকে ভোট দেবো। পুঠিয়া সদরের রিপন আহাম্মেদ বলেন,অতীতে যারা এ আসনে নির্বাচিত হয়ে ছিলেন, তারা এলাকার উল্লেখযোগ্য কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ণ করেনি। বরং তারা নির্বাচনীয় এলাকার শতশত কোটি টাকা অনিয়ম দুর্নীতি করে লুটপাট করে নিজের আখের গুজেছেন। আমরা আগামীতে আর লুটপাটকারি জনপ্রতিনিধি দেখতে চাই না।