সাতকানিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আরো ১১ জন রোহিঙ্গা আটক হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে উপজেলার কালিয়াইশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় এলাকার বার্মা কলোনীতে উক্ত অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ শামসুজ্জামান। এ সময় সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরে রোহিঙ্গাদেরকে সাতকানিয়া হতে কক্সবাজার জেলার ক্যাম্পে প্রেরণের কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। আগে কয়েক দফায় প্রায় ৫০ জনকে পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি দোহাজারী হতে পাঠানো হয় প্রায় ৩০০ জনকে। শনিবার আরো ১১ জনকে আটক করা হলো। যথাযথ প্রক্রিয়ায় তাদেরকেও ফেরত পাঠানো হবে। সাতকানিয়ায় অবস্থানরত সকল রোহিঙ্গাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হবে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করার সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি, যাতে কেউ অবৈধভাবে এখানে বসবাস করতে না পারে। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাম্পে পাঠানো হবে।”তিনি আরও বলেন, “স্থানীয়দেরও সচেতন থাকতে হবে। সন্দেহজনক অবস্থান বা চলাফেরা চোখে পড়লে প্রশাসনকে জানালে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।” স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কম মজুরিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করানোর প্রবণতার কারণে কিছু অসাধু নিয়োগদাতা রোহিঙ্গাদের কাজে লাগাচ্ছেন। এতে স্থানীয় শ্রমবাজারে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি পরিচয় গোপন রেখে চলাচলের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, পরিচয় গোপন করে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগে একটি অংশ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।" সাতকানিয়ার ছদাহা, কেঁওচিয়া, মাদার্শাসহ বিভিন্ন এলাকায় আরো কয়েক হাজার রোহিঙ্গা অবৈধভাবে বসবাস করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।