ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের এবারের নির্বাচন শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের শক্ত উপস্থিতি এই আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দীর্ঘদিনের চেনা দলীয় কাঠামোর বাইরে গিয়ে ভোটারদের একটি বড় অংশ এবার বিকল্প ভাবনায় আগ্রহী হয়ে উঠছে। এই আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আখতারুল আলম ফারুক (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক কামরুল হাসান মিলন (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি নূরে আলম সিদ্দিকী (হাতপাখা), স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা (ফুটবল) প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছেন ।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম ইঞ্জিনিয়ার শামস উদ্দিন আহমেদের সহধর্মিণী এবং সাবেক উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি অধ্যক্ষ আখতার সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অপরদিকে ময়মনসিংহ জেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও ফুলবাড়িয়া কলেজের সাবেক অধ্যাপক মো. জসিম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর অংশগ্রহণে দলীয় প্রার্থীরা চাপে রয়েছেন বলে মনে করে স্থানীয় ভোটাররা। আনুষ্ঠানিক প্রচারের শুরু থেকেই পুরো আসনে উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চলছে। প্রার্থীরা সবাই প্রায় সমান তালে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও পথসভা চালাচ্ছেন তারা। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কৃষিখাতসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম। এদিকে নির্বাচনী প্রচারে বাধা ও হামলার অভিযোগও উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালকে অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার বিকেলে পৌরসভার মধ্যপাড়ায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচার মাইক ভাঙচুর করা হয় এবং একজন কর্মী আহত হন। এ ঘটনার জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, দলীয় প্রার্থীদের নেতাকর্মীরা তাদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর মারধর, হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। কুশমাইল গ্রামের আমিরুল ইসলাম, পৌরসভা ৬ নং ওয়ার্ডের শাকের আহমেদ, কালদহ গ্রামের মোশারফ হোসেন খান বলেন, ভোটের মাঠে যে কোনো সময় অপ্রত্যাশিত ফলাফল আসতে পারে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী-উভয় দলে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকায় এ আসনে দলীয় প্রার্থীরা অনেকটাই বেকায়দায় রয়েছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর শক্ত উপস্থিতিতে পাল্টে যাচ্ছে নির্বাচনী সমীকরণ।