ভোটের আগে ও ভোটের দিন রাজশাহীতে নৌযান-যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

এম এম মামুন; রাজশাহী | প্রকাশ: ৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ভোটের আগে ও ভোটের দিন রাজশাহীতে নৌযান-যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় নৌযান ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।  শনিবার রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মো: জিল্‌লুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিবসের পূর্ববর্তী মধ্যরাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ভোটের দিন শেষ হওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় লঞ্চ ও ইঞ্জিন বোট চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। তবে নির্দিষ্ট রুটে নিয়মিত চলাচলকারী নৌযান এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। একই সঙ্গে ভোটার ও সাধারণ জনগণের যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে নৌযান ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। এর পাশাপাশি একই সময়সীমায় ট্যাক্সি ক্যাব বা কার, পিকআপ, মাইক্রোবাস এবং ট্রাক চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত পর্যন্ত সব ধরনের মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। তবে জনস্বার্থ ও জরুরি প্রয়োজন বিবেচনায় এ নিষেধাজ্ঞায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে। জরুরি সেবা কার্যক্রমে নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী পরিবহনকারী যানবাহন এবং সংবাদপত্র বহনকারী যানবাহনও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া বা বিমানবন্দর থেকে যাত্রী ও স্বজনসহ নিজ বাসস্থান কিংবা আত্মীয়ের বাসায় ফেরার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যানবাহনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে, তবে এ জন্য টিকিট বা সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র প্রদর্শন করতে হবে। দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যানবাহন এবং দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যানবাহনও এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি এবং নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের জন্য একটি করে ছোট আকৃতির যানবাহন ব্যবহারের অনুমতি থাকবে। একইভাবে রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন এবং মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর যানবাহনও এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর এলাকা ছাড়াও আন্তঃজেলা বা মহানগরের বাইরে যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান সড়কের সংযোগ সড়কে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে